অপরাধআন্তর্জাতিকনতুন খবর

বাংলাদেশে অজস্র দেবীমূর্তির শিরচ্ছেদ করল মৌলবাদীরা! ‘বাচ্চাদের দুষ্টুমি হয়ত” বলল পুলিশ

কলকাতাঃ দুর্গাপুজোর ক্ষতটা এখনো সেরে ওঠেনি। তবুও, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরছিল বাংলাদেশের হিন্দুরা। কিন্তু, মানুষ যে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যাক, সেটা চায় না এক শ্রেণির মানুষ। যদিও, তাঁদের মানুষ বলার থেকে মৌলবাদী বলাই শ্রেয়। কারণ, একজন সাধারণ মানুষ অন্য জনের সুখ দেখতে পারবে না, সেটা হতে পারে না। একজন মৌলবাদীই অন্যজনের আনন্দ, উৎসব নিয়ে চটে ওঠে আর নিজের স্বার্থসিদ্ধি পূরণ করার জন্য সে যেকোনোও পর্যায়েও যেতে পারে।

ফের এমনই ঘটনা ঘটে গেল বাংলাদেশে। গত অক্টোবর মাসে শুধুমাত্র গুজব রটিয়ে গোটা বাংলাদেশে দুর্গা পুজো মণ্ডপে তাণ্ডব চালিয়েছিল সে দেশের মৌলবাদীরা। এমনকি ইস্কন মন্দিরেও হামলা চালিয়ে সেখানকার সন্ন্যাসীকে হত্যা করেছিল তাঁরা। মৌলবাদীরা অভিযোগ করে বলেছিল, দুর্গা মণ্ডপে কোরআন রেখে তাঁদের ধর্মকে অপমান করেছে হিন্দুরা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছিল অন্য তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ ধরে যেই ব্যক্তিকে দুর্গা মণ্ডপে কোরআন রাখার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিল না। সে ওই দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়েরই মানুষ ছিল। যদিও, পরে তাঁকে মানসিক রোগী বলে দাবি করা হয়েছিল।

যাইহোক, সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বাংলাদেশে হিন্দু উৎসবের আগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এবার চট্টগ্রামে সরস্বতী দেবীর মূর্তি ভাঙচুর করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে জুটল বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমেই সরস্বতী পুজোর নির্ঘণ্ট। আর সেই নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। পুজোর জন্য বিদ্যার দেবীর মূর্তিও গড়া হচ্ছে বাংলাদেশে। আর সেই মূর্তিরই শিরচ্ছেদ করা হল ওপার বাংলায়। জানা গিয়েছে যে, বোয়াখালিতে ৩৫টি প্রতিমার শিরচ্ছেদ করেছে মৌলবাদীরা।

মৃৎশিল্পী বাসুদেব পাল সরস্বতী পুজো উপলক্ষে এই মূর্তিগুলো তৈরি করেছিলেন। আর সেই মূর্তি ভেঙে দিয়ে পালায় মৌলবাদীরা। এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা দোষীদের কঠোর শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনার খবর কানে যেতেই সেখানে যান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কবীর আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম সহ বাকি অফিসারেরা। আবদুল করিম জানিয়েছেন যে, রাস্তার ধারে খোলামেলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল প্রতিমাগুলো। এটাকে পরিকল্পনামাফিক হামলা বলে মনে হচ্ছে না। ছোট বাচ্চারা খেলার সময় দুষ্টুমি করে বা মিনিট্রাকে বাঁশ নিয়ে যাওয়ার সময়েও এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আমরা মামলাটির তদন্ত করছি।

বলে দিই, দুর্গাপুজোয় হিন্দু মন্দির, মণ্ডপ এবং হিন্দুদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় গোটা বিশ্বেই বাংলাদেশের নিন্দা হয়েছিল। এরপরে সেখানকার হাসিনা সরকার সংখ্যালঘুদের স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই পদক্ষেপ যে কতটা কার্যকর হয়েছে, সেটা চট্টগ্রামের ঘটনা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ওপার বাংলায় দিনদিন সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হলেও সেখানকার সরকার শুধু কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েই চুপ থেকেছে। আর বারবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সেখানকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার অভাব ফুটিয়ে তুলছে।

Related Articles

Back to top button