আন্তর্জাতিকনতুন খবর

তৃতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ স্ত্রীকে খুন করে আশ্রয় দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে, গ্রেফতার স্বামী

ঢাকাঃ একের পর এক বিয়ে করে সংখ্যা মোট চারে এসে ঠেকেছিল সোহাইল আহমেদের। প্রথম তিন স্ত্রীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ জনের সঙ্গেই থাকত সোহাইল। কিন্তু সন্দেহের বশে সেই স্ত্রীকে খুন করে এখন শিরোনামে সে। তাও আবার খুনের সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলেন তৃতীয় স্ত্রীকে। চতুর্থ স্ত্রীকে খুন করে আশ্রয় নেন দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে। এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে।

পোশাক সেলাই করে সংসার চালাত সোহাইল। সামান্য পোশাকশ্রমিকের এতগুলো বিয়ে শুনে এমনিতেই স্তম্ভিত এলাকার বাসিন্দারা। গত বছরের ২১ জুলাই হালিশহরের এক বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ঘটনাটি সম্পূর্ণ তদন্তের মধ্যে ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে সেই সময় খুনের কিনারা করতে পেরেছিল না পুলিশ। কারণ, ওই বাড়ি ভাড়া নেওয়া সোহাইল নিজের ভুয়ো পরিচয়পত্র দেখিয়ে আগে থেকেই মালিককে ধন্দের মধ্যে রেখেছিল।

এই খুনের ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর পুলিশ সোহাইলকে গ্রেফতার করে। এরপর সোহেলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে দেড় বছর পর খুনের রহস্য কিনারা করতে পারে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সমস্ত দোষ কবুল করে তাঁরা। মৃতা মহিলা লাকি আখতার যিনি সোহাইলের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন, তাঁকেও সনাক্ত করা হয় পুলিশের তরফ থেকে।

পুলিশ জানায়, খুনের সময় সোহাইলের তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা তাঁকে সাহায্য করেছিল। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে সোহাইল বাগেরহাটে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে আশ্রয় নেয়। যদিও, সোহাইলের দ্বিতীয় স্ত্রী এই খুনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কী না, সেটা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সোহাইল আর তাঁর দুই স্ত্রী লাকি ও নাহিদা একসঙ্গে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। ২০১৬ সালে নাহিদার সঙ্গে সোহাইলের বিয়ে হয়েছিল। আর ২০২০-র শুরুতে সোহাইল লাকিকেও বিয়ে করে।

বাংলাদেশের মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, হালিশহর থানার ওসি জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা তাঁদের দোষ স্বীকার করেছে। তাঁরা জানিয়েছে যে, লাকি আর সোহাইলের সঙ্গে ঝগড়া ছিল। সোহাইল লাকির উপর অনেক অত্যাচারও করেছে। তাঁকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। সেই সময় সোহাইলের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় স্ত্রীও ছিল। আর সেই এই ঘটনাক্রমে সোহাইললে বাধা দেয়নি।

ওসি জানান, পেশা আর দেখতে সাধারণ হলেও সোহাইল আদতে বেশ ধূর্ত প্রকৃতির। সে এতটাই চালাক ছিল যে, বাড়ি ভাড়ার জন্য ভুয়ো পরিচয়পত্রও বানিয়ে ফেলে। এরপর হালিশহরে খুন করে সে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। নিজের ফোন নম্বরও পাল্টে ফেলে সোহাইল। বাড়ির মালিক সোহাইল তাঁর ছবি দেখে সনাক্ত করে। এরপর থেকে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। কিন্তু শত চালাক হলেও সোহাইল পালিয়ে বাঁচতে পারেনি। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা দিতেই হল।

Related Articles

Back to top button