নতুন খবরভারতীয় সংস্কৃতিমতামত

কালী পূজা ও দীপাবলী উপলক্ষে চাইনিজ লাইটের পরিবর্তে ব্যাবহার করুন মাটির প্রদীপ! পাশে দাঁড়ান কুমোর সমাজের।

পুরীর মন্দিরে ভগবানের যে প্রসাদ (ভাত, ডাল) রান্না করা হয় তা মাটির পাত্রে করা হয়। এর কারণ মাটির তৈরি দ্রব্যকে ভারতীয় শাস্ত্রে পবিত্র বলে মান্যতা দেওয়া হয়। একই সাথে মাটির পাত্রে থাকা খাদ্য নষ্ট হয় না। শুধু এই নয় মাটির পাত্রে রান্না করলে খাদ্যের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুন বজায় থাকে। শাস্ত্র ও বিজ্ঞান বলে- মাটির পাত্রে রান্না করা খাদ্য সবথেকে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। অন্যদিকে আলুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা খাদ্য বিষের সমান। কিন্তু এখন ভারতের মানুষজন মাটির পাত্র ছুঁড়ে ফেলে আলুমিনিয়ামের পাত্রকে আপন করে নিয়েছে শুধুমাত্র স্ট্যাটাস বজায় রাখতে। মাটির পাত্র ত্যাগ করার সমাজে রোগ তো বৃদ্ধি হচ্ছেই একই সাথে প্লাস্টিক ইত্যাদির প্রভাবও বেড়েই চলেছে।

ফল একদিকে যেমন দূষণ বৃদ্ধি হচ্ছে, তেমনি কুমোরদের আর্থিক অবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে।। বহু কুমোর কর্মহীন হয়ে পড়েছে তথা রোজগার হারিয়েছে। পূজা, পার্বন উৎসব হলেই ভারতে মাটির তৈরি দ্রব্যের নানা ভাবে ব্যাবহার করা হয়। ভারতে বিভিন্ন ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পালন করা হয়, আর তার মধ্যেই একটি জনপ্রিয় উৎসব হলো দীপাবলী।  গোটা ভারতেই  এই অনুষ্ঠান প্রদীপ জ্বালিয়ে ও বাজি ফাটিয়ে খুব বড় করেই পালন করা হয় আর দীপাবলীর সময় ভারতের একটি আলাদা রকম সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে মানুষ চাইনিজ প্রদীপ ও ইলেক্ট্রিকের টুনি লাইট ইত্যাদির  দিকে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।

এইসব ধরণের মোমবাতি বা লাইটের সাপ্লাই সব চীন থেকেই আসে আর মানুষের এই ধরণের বস্তুর উপর আকর্ষণ চীনকেই লাভবান করে তুলছে।  ভারতে যে সব কুমোর আছে তাদেরও রোজগার কমছে আর এটা সরাসরি ভারতীয় অর্থব্যবস্থার ক্ষতি করছে। তাই আমাদের এই সব চীনের দ্রব্য ত্যাগ করে ভারতীয় কুমোর দের তৈরি মাটির প্রদীপ ব্যাবহার করা উচিত এর ফলে তাদের রোজগার বাড়বে আর ভারতীয় অর্থনীতিতে লাভ হবে। দীপাবলী উপলক্ষে মাটির প্রদীপের একটি আলাদাই তাৎপর্য রয়েছে। এছাড়া  মানা হয় যে মাটির প্রদীপ জ্বালালে শক্তি বৃদ্ধি পায় আর পরিবারে সমৃদ্ধি আসে।

দীপাবলী পালন করার পিছনে ইতিহাস:
১৪ বছরের বনবাস কাটানোর পর যখন প্রভু শ্রীরাম লঙ্কার স্বামী রাবণের বধ কোরে এবং সীতা মাতাকে রাবনের থেকে মুক্ত করিয়ে অযোধ্যা ফিরেছিলেন। তখন অযোধ্যাবাসীরা সেই খুশিতে  প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন আর তারপর থেকেই প্রতিবছর পুরো ভারত জুড়ে দীপাবলি পালন করা হয়। এছাড়াও মাটির প্রদীপ জ্বালানো নিয়ে ভারতীয়দের কিছু মান্যতাও রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে  মাটির প্রদীপ জ্বালালে বাড়িতে সুখ, সমৃদ্ধি এবং শান্তি আসে।

আসলে মাটিকে মঙ্গল গ্রহের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত করা হয়। বলা হয় যে মঙ্গল সাহসিকতা ও শক্তিকে বৃদ্ধি করে এবং তেলকে শনির প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয় আর পৃথিবীকে ভাগ্যের দেবতা বলা হয়। এবং তাই মানা হয় যে মাটির প্রদীপ জ্বালানো অর্থাৎ  মঙ্গল ও শনি গ্রহের করুণা নিয়ে আসা। এটি ছাড়াও প্রদীপ জ্বালানোর গুরুত্বও তার আলোর কারণে। আলোকে সুখ, সমৃদ্ধি, প্রসন্নতার প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে অন্ধকারকে দুঃখ, অলসতা, দারিদ্র্যের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অতএব, প্রদীপ জ্বালানোকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।

Related Articles

Back to top button