নতুন খবররাজনীতি

অমিত শাহের চাণক্য নীতি: বুলেট ট্রেন প্রজেক্টের টাকা বাঁচাতে ৮০ ঘন্টার জন্য সরকার গঠন করেছিলেন ফড়নবিষ! দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায়।

পরিবহন ব্যাবস্থা উন্নত না হলে দেশের আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ তার পরিকাঠামো উন্নয়ন করার পরেই আর্থিক বিকাশ করতে পেরেছে। এখন কেউ যদি বলে, ‘ যে দেশে লোকের চাকরি নেই সেই দেশে সড়ক নির্মাণের কি প্রয়োজন’, ‘ যে দেশে লোক এত শতাংশ গরিব সেই দেশে স্মার্ট সিটির কি প্রয়োজন’, ‘ যে দেশে এত লোক খেতে পায় না সেই দেশে ের () কি প্রয়োজন’ ইত্যাদি ইত্যাদি, তাহলে বুঝতে হবে ওই কথার কোনো মূল্য নেই। কারণ দেশকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আবশ্যক। বুলেট ট্রেন হোক বা জাতীয় সড়ক এসব কিছু দেশকে আগামী দিনে কর্মসংস্থান, উন্নয়ন সবই দেবে। বতর্মান রাজনীতিতে ভারতের ‘বুলেট ট্রেন প্রজেক্ট’ নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে। শিব সেনা ও কংগ্রেসে ও NCP এর মিলিত জোট আগেই বুলেট ট্রেন প্রজেক্টর এর টাকা কৃষকদের দেওয়ার ঘোষণা করেছিল। তবে এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটা দাবি ব্যাপক চর্চায় এসেছে।

দাবি করা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও NCP মিলে ৮০ ঘন্টার সরকার থাকার মধ্যে এমন অনেকে কর্মকান্ড ঘটেছে যা সার্বজনীক হয়নি। মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও NCP যে জোট সরকার গঠন হয়েছিল তা সাবধানতার সাথে অমিত শাহের পরিকল্পনা অনুযায়ী গঠন হয়েছিল। বুলেট ট্রেন প্রজেক্টের ফান্ড কেন্দ্র, গুজরাট সরকার ও মহারাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সোনিয়া গান্ধী এই প্রজেক্টের টাকা কৃষকদের লোন দেওয়া দিকে মুড়ে দিতে চেয়েছিল। অর্থাৎ কৃষকদের দেওয়ার নামে পুরোপুরি দুর্নীতি করা হতো।

জাপান কোনোভাবেই এই নীতি মেনে নিতে পারতো না। কারণ জাপান ফান্ড প্ৰদান করেছে বুলেট ট্রেন প্রজেক্টের জন্য। তবে জাপান কোনোভাবেই মহারাষ্ট্রের সরকারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে পুরো প্রজেক্ট অনিশ্চিত কালের জন্য বন্ধ হয়ে যেত। এরপর থেকেই শুরু হয় মোদী ও শাহের চাণক্য নীতি। প্রথমে মোদী () ও শারদ পাওয়ারের মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে একটা বৈঠক হয়। কিন্তু শারদ পাওয়ার দুটি প্রস্তাব নরেন্দ্র মোদীর কাছে রেখেছিলেন। এর মধ্যে একটা ছিল মুখ্যমন্ত্রী পদে দেবেন্দ্র ফড়নবিষকে () রাখা যাবে না। দ্বিতীয় ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদে স্থান সংক্রান্ত। নরেন্দ্র মোদী দুটি প্রস্তাবকেই মানতে অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে মাঠে কাজ করছিলেন বর্তমান রাজনীতি চাণক্য হিসেবে পরিচিত অমিত শাহ ()। অজিত পাওয়ার বিজেপির সাথে মিলে সরকার গঠনে রাজি হয়ে যায়। অমিত শাহ ভালো করেই জানতেন যে এই সরকার কোনোভাবেই টিকবে না। সাত সকালে শিব সেনার ঘুম ভাঙার আগেই নেওয়া হয় শপদ গ্রহণ পক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী পদে আসতেই ফড়নবিষ মহারাষ্ট্রের কাছে থাকা সব ফান্ড কেন্দ্রে ট্রান্সফার করে দেন। পুরো ঘটনার বিষয়ে অজিত পাওয়ার পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি। কাজ আদালতের রায় ও আসে এবং উনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন। অজিত পাওয়ার সব জানলে উনিও সোনিয়া গান্ধীর কাছে পলায়ন করেন।

সোনিয়া গান্ধী বলেছেন যে মহারাষ্ট্রে তাদের জোট সরকার কৃষকদের লোন মাফ করবে। তবে এখন তিনটি পার্টির কাছে বুলেট ট্রেন ফান্ডকে মুড়ে দেওয়ার কোন বিকল্প নেই। বিজেপি পার্টি কংগ্রেসের নীতিকে ভালোভাবেই জানে। আসলে অটল বিহারীকে হারিয়ে যে বছর কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল সে বছর কংগ্রেস কৃষি লোন মাফের কথা বলেছিল। লোন মাফ হবে ও মূল্যবৃদ্ধি কমবে এই আনন্দে দেশের জনতা অটলবিহারিকে হারিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে অটলবিহারীর জমানো বিদেশি অর্থ ভান্ডার থেকে সামান্য টাকা কৃষকের দিয়ে বাকি পুরো টাকা এদিক থেকে ওদিকে হয়। মধ্যেপ্রদেশ ও রাজস্থানেও কংগ্রেস পার্টি এমন খেলা দেখিয়েছে। তাই বিজেপি সাবধানতা অবলম্বন করে বুলেট ট্রেনের ফান্ডকে লুটের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, পুরো দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে। আমাদের দ্বারা এ বিষয়ে নিজের কোনো মতামত প্রকাশ করা হয়নি।

Back to top button
Close