আন্তর্জাতিকনতুন খবর

১৮ লক্ষ উইঘুর বন্দি, ৬১৩ জন ইমাম নিখোঁজ! ইসলামিক নিয়ম মেনে কবর দিতেও বাধা দিচ্ছে চীন

চীনে উইঘুর মুসলিমদের উপর অত্যাচারের একের পর এক রিপোর্ট সামনে আসছে। এখন তাজা খবর আসছে যে চীনে একের পর এক ইমাম নিখোঁজ হচ্ছে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশকিছু ইমামকে চীনের পুলিশ প্রশাসন হেফাজতে নিয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে এখন আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উইঘুর মুসলিমদের কবর দেওয়ার উপর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এক বিখ্যাত সাংবাদিক দাবি করেছেন যে প্রায় ৬১৩ জন ইমাম নিখোঁজ রয়েছেন। এই ইমামদের চীনের প্রশাসন বন্দি বানিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমামরা ইসলাম ধৰ্ম প্রচারের ও ধর্মের রীতি নীতি সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্য মেরুদন্ডের মতো কাজ করে থাকে।

এখন চীনের প্রশাসন ইমামদের ধরে ধরে জেলে ঢুকিয়ে দিতে শুরু করেছে। উইঘুর মুসলিম সংস্কৃতিকে চীন থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেওয়ার অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। শুধু এই নয় ২০১৭ সাল থেকে এখনও অবধি প্রায় ১৮ লক্ষ উইঘুরদের বন্দি বানিয়ে রাখা হয়েছে।

চীনের প্রশাসন মুসলিমদের কোরআন পাঠ থেকে শুরু করে, দাড়ি রাখা, রজা রাখা ইত্যাদি প্রত্যেক ধার্মিক বিষয়ে নি’ষেধাজ্ঞা লাগিয়ে রেখেছে। চীন বহু মুসলিমকে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করানোর জন্য জোর দিচ্ছে। এর আগে চীনে একের পর এক মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর সামনে এসেছিল।

এমনকি কিছু কিছু মসজিদকে ভেঙে টয়লেটে পরিণত করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই চীনের ইঞ্চুয়ান প্রান্তে মিং আমলের মসজিদের গুম্বজ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মসজিদকে এক বড়ো শপিং মলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এখন খবর এও আসছে যে চীন বহু মসজিদের রং পরিবর্তন কাজে নেমেছে। অনেক মসজিদের সবুজ রং পাল্টে অন্য রং দেওয়া হচ্ছে।

বেশকিছু মসজিদে আরবি শব্দ মুছে ফেলা হয়েছে এবং পাশে চীনা শব্দ লিখে দেওয়া হয়েছে। চীন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের দেশে আরবি সংস্কৃতি প্রমোট করা চলবে না। এমনকি হা’লাল মাং’স এর উপরেও নি’ষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চীনের প্রশাসন উইঘুরদের দমন করতে সমস্ত শক্তি লাগিয়ে দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button