আন্তর্জাতিকনতুন খবর

নিজের ফাঁদে নিজেই পড়ল চীন! নয়া আইনের জেরে ২ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি ড্রাগনের

বাংলায় প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে অতি চালাকের গলায় দড়ি। চীনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই-ই হয়েছে। সম্প্রতি চীন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। অবশ্য এজন্য দায়ী চীন নিজেই। চীনের এই ক্ষতির পিছনে আমেরিকা বা জাপানের মতো কোনো ক্ষমতাশালী দেশ নেই, দায়ী চীন নিজেই। চীন নতুন ডাটা প্রটেকশন আইন চালু করেছে। নয়া আইন অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কাঠামোর অনুরূপে প্রচলিত। ইউরোপের সাধারণ ডেটা সুরক্ষা প্রবিধান অনুকরণ করে চীন এই নীতি লাগু করেছে, যাতে কোন সংস্থা বা ব্যক্তি চীনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না।

আসলে, এর আগে চীনের বহু অ্যাপ গোপনে চীনাদের দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতো। এছাড়া এই অ্যাপ নাগরিকদের ইনকামের তথ্য‌ও সংগ্রহ করতো। এরফলে খুব কম টাকা ইনভেস্ট করেই মোটা টাকার লাভ তুলতো চাইনিজ কোম্পানিরগুলি। চীনের নয়া আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হঠাৎ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না। এরফলে পরোক্ষভাবে ব্যাবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে বহু অনলাইন ভিত্তিক কোম্পানি।

এই আইনের ফলে চীনের বহু কোম্পানির রেভিনিউ কমতে শুরু করেছে। যার দরুন মাত্র কিছু সময়ের মাধ্যমে চীনের স্টক মার্কেট থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে যায়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা শি জিনপিং ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ওই দেশে বিলিয়নিয়ার ও মিলিওনিয়ারা আরো দ্রুত টাকার লুট শুরু করে। অন্যদিকে গারীব মানুষেরা আরও গরীব হতে শুরু করে। জানিয়ে দি, গরীব ও ধনী ব্যাক্তিদের অনুপাতে চীন সবদেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ফলত,‌ পিছিয়ে পড়া মানুষদের নজরে জিংপিংয়ের ভাবমূর্তি মোটেও ভালো নয়। সেই ভাবমূর্তি ভালো করতে গিয়েই নতুন আইন লাগু করেছে জিনপিং সরকার। যা এখন চীনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জিংপিং পুঁজিবাদ কন্ট্রোলের জেরে ওই দেশের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির স্টক মন্দার সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

টেনসেন্ট এবং আলিবাবা সহ স্টকগুলি 4.5 শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে। বৃহত্তর মার্কিন তালিকাভুক্ত চীনা স্টকগুলির ৫ শতাংশেরও বেশি নীচে নেমে গিয়েছে, জ্যাক মা প্রতিষ্ঠিত ইকমার্স গ্রুপের‌ও বহু শতাংশ শেয়ার পতন হয়েছে। বেইজিংয়ের নতুন বিধির ফলে চীনা কারিগরি স্টকগুলির বিক্রয় বন্ধ হয়ে গেছে, ফেব্রুয়ারিতে সূচকটি প্রায় 53 শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। এদিকে জাপান, ইউরোপ ও আমেরিকার বহুজাতিক কোম্পানিগুলো চীন থেকে ইতিমধ্যে নিজেদের ব্যবসা গোটাতে শুরু করেছে

Related Articles

Back to top button