আন্তর্জাতিকনতুন খবর

পাকিস্তানের থেকে ১৪০০ কোটি টাকা উসুল করবে চীন, বন্ধুত্বের নামে লুটে নিল বেজিং

নয়া দিল্লিঃ চীন-পাকিস্তানের নাম একত্রে শুনলে প্রথমেই মালিক আর গোলামের কথা মনে পড়ে। একদিকে চীন পাকিস্তানে বিনিয়োগের নামে তাদের অর্থনৈতিক সম্পদ লুটপাট করছে, ঋণের জালে পাকিস্তানকে ফাঁসাচ্ছে, বেলুচিস্তান থেকে সিন্ধু পর্যন্ত পাকিস্তানিদের চাকরি খাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান, চীনের কারসাজি বুঝেও কিছু না দেখার ভান করে বসে রয়েছে। এমনকি দেশের কেউ চীনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে, তাঁকে বলপূর্বক দমনও করছে পাকিস্তান।

গত বছর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে কর্মরত চীনা নাগরিকরা পাকিস্তানি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। ১৩ জুলাই ২০২১-এ বিদ্রোহীরা খাইবার পাখতুনখোয়ায় দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইটে চীনা শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাসকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়।

ওই হামলায় ১০ চীনা শ্রমিক নিহত এবং ২৬ জন গুরুতর আহত হয়। এখন পাকিস্তান সরকার নিহত ও আহত চীনা নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে যাচ্ছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হতে পারে ৪০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পাকিস্তানের পঙ্গু অর্থনীতির জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ হল, এই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও পাকিস্তানকে ঋণ দিতে অস্বীকার করেছে।

মিডিয়া অনুযায়ী, দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (CEPC) আওতায় আসে না। এমন পরিস্থিতিতে হামলার শিকার চীনা নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে পাকিস্তানের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে চীনকে খুশি করতেই তারা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে চলেছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চীন যে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে তা চীনে বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি। ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী শওকত তারিনের নেতৃত্বে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটি চীনা নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে। শোনা যাচ্ছে যে, এই পরিমাণ ৪৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

চীন পাকিস্তানকে তার দাস বলেই মনে করে, যার একটি উদাহরণ সম্প্রতি পাকিস্তান নিজেই পেশ করেছে। পাকিস্তান ঘোষণা করেছিল যে, তারা তাদের নাগরিকদের উপর চীনা দেশীয় ওষুধ ব্যবহার করেছে এবং পরীক্ষাটি সফল হয়েছে। আপনাদের বলে দিই যে, ভারতে যেমন আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্য রয়েছে, ঠিক একইভাবে চীনে একটি দেশীয় ঔষধি ঐতিহ্য রয়েছে। যাইহোক, চীনের ঔষধি ঐতিহ্য ভারতীয় আয়ুর্বেদের মতো বিশ্বে সমান সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা পায় না। বা এটিকে আয়ুর্বেদের মতো আধুনিক ওষুধের বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা হয় না, তবে চীন তবুও তার দেশীয় টোটকা দিয়ে সাথে করোনা ভাইরাসের ওষুধ তৈরি করার চেষ্টা করেছে এবং তারা এটি পাকিস্তানি নাগরিকদের উপর পরীক্ষা করছে।

চীনা জাহাজ পাকিস্তানি বন্দরে তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে গিয়ে মাছ ধরে। বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত চীনা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের কেলেঙ্কারি করছে এবং পাকিস্তান সরকার তাদের তদন্ত করতে পারছে না। ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে চীনে তৈরি ওষুধ, সেগুলি প্রথমে পাকিস্তানিদের এবং পরে চীনা নাগরিকদের উপর ব্যবহার করা হয়। আর এগুলো থেকেই এটা স্পষ্ট যে, চীন পাকিস্তানকে শোষণ করছে এবং তা থামাতে অসহায় ইমরান খান।

Related Articles

Back to top button