আন্তর্জাতিকনতুন খবর

“ভারত মিসাইল টেস্ট বন্ধ করুক নাহলে খুব খারাপ হবে”- চাইনিজ মিডিয়া

চীন ভারতের এক মিসাইল টেস্ট বন্ধ করানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ভারতের মিসাইল টেস্ট বন্ধ করাতে চীন সমস্ত শক্তি ঝুঁকে দিচ্ছে। এমনকি চীনের মিডিয়ায় ভারতের অগ্নি-5 মিসাইল টেস্ট এর বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করেছে। সম্প্রতি চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পোখরান বিস্ফোরণের রেজোলিউশনের উল্লেখ করে বলেছে, যে ভারত পরমাণু সক্ষম আইসিবিএম অগ্নি-5 MIRV ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছে।

কেন অগ্নি-5 মিসাইলকে ভয় পাচ্ছে চীন

আগামী ২৩ শে ডিসেম্বর এই মিসাইলের পরীক্ষা করা হবে। ফলত, চাপে পড়েছে চীন, কারণ অগ্নি-৫ MIRV একসাথে দশটি শহরে আঘাত করতে সক্ষম। অর্থাৎ এক‌ই সময়ে এই মিসাইল নির্ভুলভাবে চীনের দশটি শহরে আঘাত করতে পারে বা বলা ভালো চীনের পাঁচটি শহর ও পাকিস্তানের পাঁচটি শহরে আঘাত করতে পারে। চীনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসে লেখা হয়েছে, ” যদি ভারত মিসাইল টেস্ট বন্ধ না করে তাহলে তা বিশ্বের জন্য বিপদজনক”

৫০০০ কিলোমিটার স্ট্রাইক রেঞ্জের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি চীনের বেশ কয়েকটি শহরে পৌঁছতে পারে এবং ভারতের সামরিক দক্ষতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রটি পাঁচবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। পাঁচটি পরীক্ষাই সফল হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং উত্তর কোরিয়া সহ খুব কম দেশেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।ভারত ও পাকিস্তান ১৯৯৮ সালে পরমাণু পরীক্ষার পর, নিরাপত্তা পরিষদ উভয় দেশকে পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছিল। এছাড়াও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের পাশাপাশি সমস্ত মিসাইল উপাদান বন্ধ করতে এবং পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। চীন সেই প্রসঙ্গ তুলে জাতিসংঘে অনেকবার অনুরোধ করছে এই মিসাইল পরীক্ষা বন্ধের জন্য।

চীনের অনুরোধ উপেক্ষা করে আমেরিকা সরাসরি জবাব দিয়েছে, ভারত এখনও পর্যন্ত মিসাইল নিয়ে কোনো অবৈধ কাজ করেনি, কোনো দেশকে আইনিভাবেও মিসাইল বিক্রি করেনি, এমনকি কোনো দেশের ক্ষতিও করেনি। তাই ভারতের মিসাইল পরীক্ষণ নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়।

চীনের পিএলএ একাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেসের গবেষক ডু ওয়েনলং গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছেন যে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার (৫,০০০ মাইল) দূরের লক্ষ্য বস্তুকে সফলভাবে নিখুঁত আঘাত করতে সক্ষম। কিন্তু ইউরোপীয় দেশ যাতে আতঙ্কিত না হয় তাই ভারত নিজের ক্ষেপনাস্ত্রের দূরত্ব কমিয়ে বলে।

Related Articles

Back to top button