নতুন খবরভারতবর্ষ

আম্বানিদের থেকেও বেশি মানুষকে কাজ দেয় ভারতের এই কোম্পানি, কোটি কোটি মানুষ করেন বিশ্বাস

নয়া দিল্লিঃ পলকা ডট ফ্রক পড়া একটি ছোট্ট মেয়ে ,হাতে দুধের গ্লাস আর মুখে তিনটি শব্দ “আটারলি, বাটারলি, ডিলিসিয়াস” কোন সংস্থার বিজ্ঞাপনের কথা বলছি তা বোধহয় আলাদা করে বলার দরকার নেই। 1945 সালে, গুজরাটের খেদা জেলার কৃষকরা ব্রিটিশ সরকারের শোষণমূলক নীতির বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু করে। এরপর 1946 সালে দুটি ছোট গ্রাম থেকে দৈনিক মাত্র 247 লিটার দুধ সংগ্রহ করে শুরু হয় একটি কো-অপারেটিভ সোসাইটি। ধীরে ধীরে তা এখন ভারতের সবথেকে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আমুলে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি নিজেদের 75 বছর উদযাপন করল আমুল।

শুনলে আপনিও অবাক হবেন দৈনিক মাত্র 247 লিটার দুধ সংগ্রহ করে শুরু হয়েছিল যে কো-অপারেটিভ সোসাইটি, তাই এখন দিনে ব্যবহার করে প্রায় আড়াই কোটি লিটার দুধ। এমনকি আদানি আম্বানির মত বড় বড় কর্পোরেটগুলির থেকেও বেশি চাকরি দেয় আমুল। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ, কাশ্মীর, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, পাঞ্জাব সহ 16-17টি রাজ্য জুড়ে প্রায় 15 লক্ষ মানুষকে রোজগারের পথ দেখিয়েছে এই সংস্থা। তাদের মূল রোজগারের প্রায় 80% আয়ই তারা পৌঁছে দেয় কৃষকদের কাছে।

আমুলের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিলেন ভারতের মিল্কম্যান নামে খ্যাত ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েন। 1949 সালে সরকারী কর্মচারী হিসাবে ডেয়ারি চালানোর জন্য আনন্দ শহরে এসেছিলেন এই 28 বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু তারপর কার্যত খোলনলচে বদলে দেন তিনি। কার্যত তার নেতৃত্বেই 1955 সালের গড়ে ওঠে আনন্দ মিল্ক ইউনিয়ন লিমিটেড বা আমুল। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলিকে আরও উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেন। প্ল্যান্টে যাতে সর্বদা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় সেদিকেও নজর দেন তিনি।

আজ সারা দেশজুড়ে আমাদের প্রায় 87 টি প্ল্যান্ট রয়েছে। এর মধ্যে 30 টি শাখাই অবশ্য গুজরাটে। আমুল এমন এক সংস্থা যার কাছে বর্তমানে রয়েছে বিশ্বের সবথেকে অত্যাধুনিক মেশিনারি। জানিয়ে রাখি আগামী দিনে দুগ্ধজাত প্রোডাক্ট ছাড়া, অন্যদিকেও পা রাখতে চলেছে আমুল। ভোজ্যতেল, ময়দা, ড্রাই ফুটের ক্ষেত্রেও এবার যুক্ত হবে আমুলের নাম।

এখনই আমুল আদানি উইলমার, আইটিসি, ম্যারিকো, নেসলে, ব্রিটানিয়া এবং হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (এইচইউএল) এর মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলির সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় রয়েছে। আমুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এস সোধি জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় 100 কোটি মানুষ আমলের কোন না কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন প্রতিদিন এবং তারা আগামী দিনে নন ডেয়ারি প্রোডাক্টের দিকেও নজর দিতে চলেছেন।

 

Related Articles

Back to top button