Press "Enter" to skip to content

দিল্লীতে তিন মাস ধরে ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়ানো করোনা ওয়ারিয়র অরুণ সিংয়ের প্রাণ কেড়ে নিলো করোনা!

শেয়ার করুন -

নয়া দিল্লীঃ দেশে করোনার ভাইরাসের (Coronavirus) সংক্রমণ লাগাতার বেড়েই চলেছে। একদিনে এবার প্রায় ৩০ হাজার করে মামলা সামনে আসছে। দেশের রাজধানী দিল্লীতে (Delhi) অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোখার জন্য কেন্দ্র সরকার (Central Government) মার্চ মাসেই দেশে লকডাউন জারি করেছিল। লকডাউকে রোজগার বন্ধ হওয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক নিজের নিজের গ্রামে পলায়ন করে।

এই ক্ষুধার্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য অনেকেই সামনে আসে। আর এদের রাস্তাতেই জল, খবারের ব্যবস্থা করে দেয়। এরকমই এক ব্যাক্তি ছিলেন দিল্লীর সিবিল ডিফেন্স ভলেন্টিয়ার অরুণ সিং (Arun Singh)। তিনি এপ্রিল মাস থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রোজ রাস্তায় খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। এবার তিন মাস পর, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওনার মৃত্যু হল।

জুলাই মাসের প্রথমে পরীক্ষা করার পর ওনার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তিনি জুলাই মাসের ৪ তারিখ হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার দ্বারকা ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তিনি বিগত তিনমাস ধরে প্রতিদিন মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন। ওনার একটি পুত্র সন্তান আছে, সেই নবম শ্রেণীতে পড়ে। আর ওনার কন্যা সন্তান গত বছর দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা পাস করেছে।

অরুণ সিংয়ের মৃত্যুতে দ্বারকার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দর শেখর বলেন, ‘অরুণ সিং আমাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীর মধ্যে একজন ছিল। সে সবসময় সবকিছুতে এগিয়ে থাকত। ওঁর প্রতিটি কাজই প্রশংসনীয় ছিল। আমরা তাঁকে যেই কাজই দিতাম, সেটা সে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে পালন করত। সে সবসময় নিজের ১০০% দিত। তাঁর অকাল মৃত্যু আমাদের সবার কাছে সবথেকে বড় ক্ষতি।

দিল্লী সরকারের সাথে প্রায় ১৩ হাজার সিবিল ডিফেন্স ভলেন্টিয়ার কাজ করছে। তাঁরা প্রায় ১৮ হাজার টাকা প্রতিমাসে পায়। অরুণ সিং এর ভাই এমএল সিং বলেন, ‘সে তাঁর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিল। এবার তাঁর স্ত্রী আর তাঁর সন্তানদের কি হবে।”