নতুন খবরভারতবর্ষ

ধার ছিল ২৮ টাকার, সুদূর আমেরিকা থেকে ভারতে এসে ঋণ মেটালেন প্রাক্তন নেভি অফিসার

নয়া দিল্লিঃ আশ্চর্য কারণে আমেরিকা থেকে হরিয়ানা এসে পৌঁছলেন নৌ সাহসিকতা পুরস্কারে ভূষিত অবসরপ্রাপ্ত নেভি কমান্ডার বিএস উপ্পল। তিনি মতি বাজারে দিল্লি ওয়ালা হালওয়াইয়ের কাছে এসেছিলেন। তিনি দোকানের মালিক বিনয় বানসালকে বলেন, ‘১৯৫৪ সালে তোমার দাদা শম্ভুদয়াল বানসালকে ২৮ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হঠাৎ আমাকে শহরের বাইরে যেতে হলো। এরপর নৌবাহিনীতে যোগদান করি। এরপর তিনি হিসাব মেটাতে আসতে পারিনি।’

অবসরের পর উপ্পল ছেলেকে নিয়ে আমেরিকা চলে যান। তিনি বিনয়-কে বলেছেন ‘ঐদেশ থেকে আমার সবসময় দুটি জিনিস মনে পড়ে মন খারাপ হতো। একটা ছিল তোমার দাদার বাকি থাকা ২৮ টাকা। দ্বিতীয়টা হল আমার দশম শ্রেণী পাশ করে হারজিরাম হিন্দু হাইস্কুলে পড়তে না পারার কথা। আমি এখানে আসতে চেয়েছিলাম। তোমার দোকানে দই লস্যি খেতাম। যার মধ্যে ২৮ টাকা বাকি থেকে গিয়েছিল একসময়। আমি বিশেষভাবে এখানে এসেছি তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে এবং আমার স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে।

বিএস উপ্পল বিনয় বনসালের হাতে দশ হাজার টাকা রাখলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। উপ্পল অনুরোধ করেন যে ‘আমার মাথায় আপনার দোকানের ঋণ বকেয়া আছে, দয়া করে এই ঋণের জন্য এই পরিমাণটি গ্রহণ করুন। আমি আমেরিকা থেকে বিশেষভাবে এই উদ্দেশ্যে এসেছি। আমার বয়স ৮৫ বছর। সেই সময়ের টাকার পরিমাণ আজ এত বেশি হয়ে গেছে, তাই আমি এই পরিমাণ টাকা দিতে চাই।’

এরপর উপ্পলের দাবির কাছে হার মেনে বিনয় বানসাল টাকা গ্রহণ করেন। অবসরপ্রাপ্ত নৌ-কমান্ডার বিএস উপ্পল পরে হরজিরাম স্কুলে যান। তবে বন্ধ স্কুল দেখে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় যে সাবমেরিনটি একটি পাকিস্তানি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল তার কমান্ডার ছিলেন বিএস উপ্পল। তার সাবমেরিন এবং নাবিকদের নিরাপদে নিয়ে আসেন। এই সাহসিকতার জন্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাকে নৌ পুরস্কারে সম্মানিত করে।

Related Articles

Back to top button