আন্তর্জাতিকনতুন খবর

ফ্রান্সে চরমপন্থী মুসলিমদের বিরুদ্ধে আইন, সমস্ত মসজিদে চলবে কড়া নজরদারি, নিষিদ্ধ বহুবিবাহ

নয়া দিল্লীঃ বুধবার ফ্রান্স (France) সরকার ‘বিতর্কিত বিচ্ছিন্নতাবাদ বিল’ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করেছে যা ‘ইসলামী উগ্রপন্থা’ রোখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই সুরক্ষা বিল ফ্রান্সের সংসদের নিম্ন সদনে ২৪ নভেম্বর পাশ করানো হয়েছিল। এই আইন লাগু হওয়ার পর ফ্রান্সের মসজিদ গুলোতে কড়া নজর রাখা হবে। ইসলামিক অর্গানাইজেশন গুলো যেই যেই বিদেশী ফান্ড পায় সেগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ করা হবে আর কট্টরতার জন্য বদনাম সংগঠন স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হবে। জানিয়ে দিই, কিছুদিন আগে প্যারিসে এই আইনের বিরুদ্ধে উগ্র প্রদর্শন হয়েছিল, আর সেই প্রদর্শনে ৩৭ হন আহত হয়েছিল।

আল জাজিরার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্রান্সের সরকার ‘কট্টরপন্থী ইসলামিকরনের” বিরুদ্ধে মোকাবিলা করা জন্য নতুন আতিন বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই আইনের ফলে ফ্রান্সের মুসলিমরা সবার সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফ্রান্সে এই বিলের বিরোধিতা মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে সাংবাদিকরা পর্যন্ত করছেন। সাংবাদিকদের মতে, এই বিলের মাধ্যমে সরকার তথ্যের স্বাধীনতা নিষিদ্ধ করতে চায়।

প্রসঙ্গত এই বিলে ফ্রান্সের পুলিসকর্মীদের ছবিকে বিকৃত করা অথবা ক্ষতি করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই বিল অনুসারে, পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের ফটোগ্রাফের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিবরণ দেওয়াও অপরাধের শ্রেণিতে আসবে।

ফ্রান্সে সম্প্রতি প্যারিস আর নিসে পরপর তিনটি সন্ত্রাসবাদী হা’ম’লা হয়েছে। এই হা’ম’লা’য় মোট চারজনের প্রাণ গিয়েছে হয়েছে আর দুজন গুরুতর আহত হয়েছে। এরপরই ফ্রান্স সরকার কট্টরপন্থী মুসলিমদের রোখার জন্য নানান উপায় খুঁজছে। সরকার প্রায় ৫০ টি ইসলামিক সংগঠন আর ৭৫ টি মসজিদে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফ্রান্স প্রায় ২০০ জন কট্টরপন্থীকে দেশ থেকে বের করে দিতে চায়, যারা ফ্রান্সের নাগরিক না।

বুধবার ফ্রান্সের ক্যাবিনেটে পেশ হওয়া এই বিল অনুযায়ী, দেশের সমস্ত মসজিদে নজরদারি বাড়ানো হবে। তাদের পাওয়া ফান্ড আর ইমামের ট্রেনিংয়েও নজর রাখা হবে। এর সাথে সাথে ইন্টারনেটে ঘৃণা ছড়ানো পোস্টের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়াও সরকারি আধিকারিকদের ভয় দেখানে জেলের সাজার নিদান দেওয়া হয়েছে। এই বিল ২০২১ এর শুরুতে সংসদে পৌঁছাতে পারে আর এর কয়েকমাস পর এই বিল আইন রুপে লাগু হতে পারে। মসজিদ গুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার সীমা ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত নির্ধারিত হবে, এর থেকে বেশি ফান্ড মসজিদে দেওয়া যাবে না।

Related Articles

Back to top button