আন্তর্জাতিকনতুন খবর

হিন্দুদের শক্তিপিঠ মন্দিরের জন্য ১ টাকাও দিতে রাজি নয় পাক সরকার! ৩০ কোটি টাকা সাহায্য করল বালোচ সরকার

পাকিস্তানে হিন্দু নি’ধন মাঝে মাঝেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর অত্যাচারের পাশাপাশি হিন্দু মন্দির ধ্বংস‌ও যেন ওই দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের লাসবেলা জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শক্তিপীঠ মন্দির হিংলাজ মাতার মন্দির। ইহা একটি সতীপীঠ‌ও বটে। কিন্তু হিন্দু ধর্মের সেই মন্দিরের সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজের প্রকল্পে সাহায্য করতে নারাজ ইমরান খানের সরকার। এর জেরেই ইমরান খান সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে বালুচিস্তান আওয়ামি পার্টির (BAP) সেনেটর দানেশ কুমার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দানেশ কুমার নিজেই সংস্কারমূলক কাজ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব পেশ করেছিলেন পাক সরকারের দরবারে।

জনপ্রিয় পাক সংবাদপত্র ‘ডন’-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি বছর কয়েক হাজার পুণ্যার্থী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই হিংলাজ মাতার মন্দিরে আসেন। এই বিষয়ে সেনেটর দানেশ সংবামাধ্যমকে জানিয়েছেন, হিংলাজ মাতা মন্দির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই মন্দির ভীষণভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এজন্যই প্রায় ১০-১২টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দানেশ। তবে ইমরান খানের সরকার সেই প্রস্তাব অতিদ্রুত খারিজ করে দিয়েছেন।

দানেশ আরও বলেন, ‘মন্দিরের উন্নয়নের স্বার্থে এক পয়সাও দিতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। এই মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি ধর্মীয় স্থানের মধ্যে একটি। ভারতীয় রাজনীতিবিদ যশবন্ত সিং নিজের বইতে জানিয়েছিলেন যে মোহম্মদ আলি জিন্না স্বয়ং এই মন্দিরে এসেছিলেন।’

এদিকে ইসলামাবাদ না দিলেও হিংলাজ মাতা মন্দিরের উন্নয়নের জন্যে ৩০০ মিলিয়ন অর্থসাহায্য বরাদ্দ করেছে বালোচ সরকার। এই অর্থ পুণ্যার্থীদের জন্যে উন্নত প্রতিক্ষালয় তৈরি খাতে খরচ করা হবে। দানেশ দাবি করেন, বহু বহু বছর ধরে পাকিস্তানে বহু মন্দির অবহেলিত অবস্থায় আছে। অবশ্য বর্তমানে স্থানীয় সরকার গত কয়েক বছরে পর্যটন এবং মন্দির সংস্কারের স্বার্থে ১ বিলিয়ন অর্থ খরচ করেছে।

Related Articles

Back to top button