বিশেষভারতবর্ষ

বর্বর ইংরেজদের পিটিয়ে ভারতবাসীর মন জয় করে নিতেন বাঘা যতীন! আজকের দিনেই শহীদ হয়েছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়

রাজনৈতিক খেলার কারণেই গান্ধী, নেহেরুর ইতিহাসে পরিপূর্ণ ইতিহাস বইতে বহু যোগ্য ব্যাক্তি স্থান পায়নি। ইতিহাস বইতে সঠিক স্থান না পাওয়া, ভারত মাতার এমনি এক অদম্য সাহসী পুত্র ছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (Jatindranath Mukherjee)। যিনি ইংরেজদের পেটানোর জন্য দেশজুড়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন। সেই সময় যখন ইংরেজদের ভয়ে সকলে লুকিয়ে থাকতেন তখন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বহুবার ইংরেজদের পিটিয়ে দেশে খ্যাতিলাভ করেছিলেন। উনার বলবান শরীর উনাকে লড়াই করার এই বিশাল শক্তি প্রদান করতো। বলা হয় একবার উনি একা ৮ জন ইংরেজকে পিটিয়েছিলেন। ছোটো বেলায় মায়ের কাছে থেকে প্রাপ্ত শিক্ষায় উনাকে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করতো।

ছোটো থেকে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ধর্ম, গীতা পাঠ, মহাভারত ইত্যাদি বিষয়ে দুর্দান্ত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। উনার সমবয়সীরা যখন ধর্মের মানে অবধি বুঝতেন না তখন তিনি নিষ্কাম কাজের বিষয়ে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের বলে যাওয়া কথার তাৎপর্য সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন। কলেজে পড়ার সময় উনি স্বামী বিবেকানন্দ এর সম্পর্কে আসেন। স্বামীজি উনাকে এক দেশি জিমে প্রেরণ করেন যাতে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় কুস্তি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে যান। একবার গ্রামে উৎপাত করা এক বাঘকে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (Jatindranath Mukherjee) একা মেরে ফেলেছিলেন। তখন থেকে উনার নাম হয় বাঘা যতীন (Bagha Jatin)। অনুশীলন সমিতি নির্মাণের সময় বাঘা যতীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অনুশীলন সমিতি গঠন হওয়ার পর থেকে বাঘা যতীনের দ্বারা ইংরেজদের পেটানোর খবর নিত্য হয়ে উঠেছিল। ২ দিন পর পর খবর আসতো যে উনি ইংরেজদের পিটিয়ে দিয়েছেন। একবার উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে আপনি একবারে কতজনকে পেটাতে পারবেন। উত্তরে বলেছিলেন সৎ হলে একজনকেও না, অসৎ হলে গোনার শেষ থাকবে না। সেই সময় উনি বহু সংগঠন ও আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যাক্তিত্বের সাথে সম্পর্কে ছিলেন।

১৯১৫ সালে উনি জার্মানির রাজার সাথে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে ঠিক হয় যে তারা ভারতকে স্বাধীনতার জন্য সাহায্য করবে। এর জন্য ভারতের তিনটি বন্দরে জার্মানি গোপনভাবে অস্ত্র পাঠাবে বলে জানিয়েছিল। তবে ঘটনাটি এক বিশ্বাসঘাতক এর মাধ্যমে ইংরেজদের অবধি পৌঁছে যায়। একটা জাহাজকে আমেরিকা এটাকে বাজেয়াপ্তে করে। বাকি দুটি জাহাজকে ইংরেজরা আটকে দেয়। একইসাথে বন্দরগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাঘা যতীন ও উনার বন্ধুদের অক্লান্ত চেষ্টার পরেও জার্মানের সাহায্য ভারতীয় বীরদের অবধি পৌঁছায়নি। ১৯১৫ সালে ১০ সেপ্টেম্বর ইংরেজ বাহিনির সাথে লড়াইয়ে শহীদ হন ভারতমাতার এই বীর সন্তান। শেষ নিঃস্বাস ত্যাগের আগে তিনি বলে যান, আমরা মরবো দেশ জাগবে।

Back to top button
Close