Press "Enter" to skip to content

বিশ্বাসঘাতকদের আতঙ্ক! দেশদ্রোহীকে গুলি করে হাসতে হাসতে ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত

শেয়ার করুন -

31 শে আগস্ট 1888 সালের জন্মাষ্টমীর দিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারত মাতার এক সুপুত্র যিনি তৎকালীন বিশ্বাসঘাতকদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন। একদিকে যখন ইংরেজরা ভারতকে লুটেপুটে খেতে ব্যাস্ত তখন ভারতেরই কিছু লোকজন ইংরেজদের পা চেটে দেশবিরোধী কাজে মেতে উঠেছিল। ভারতে যখন স্বাধীনতা সাংগ্রামীরা নিজেদের সম্পূর্ণ শক্তি লাগিয়ে ইংরেজদের তাড়ানোর চেষ্টা করছিল তখন কিছু লোভী, বিশ্বাসঘাতক মানুষ বিপ্লবীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এমনসব বিশ্বাসঘাতকদের গলা টিপে মারতেই জন্ম নিয়েছিলেন ভারত মাতার সুপুত্র কানাইলাল দত্ত। যিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে দেশের জন্য ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন। উনি ১৮৮৮ সালে হুগলির চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কলেজে পড়ার সময় উনি অধ্যাপক চারুচন্দ্র রায়ের প্রভাবে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য কাজে নেমে পড়েন। ১৯০৮ সালে উনি যুগান্তর দলে যোগদান করেন।

ওই সময়েই কিংসফোর্ড হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বেশকিছু স্বাধীনতা সাংগ্রামীকে। কানাইলাল দত্তও ছিলেন গ্রেফতার হওয়া বন্দিদের মধ্যে। আলিপুর বোমা মামলা ইস্যু তখন সংবাদ মাধ্যমে ছেয়ে গেছে, দেশের প্রান্তে প্রান্তে স্বাধীনতার জন্য বিপ্লব শীর্ষে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আলিপুর বোমা মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন নরেন্দ্রনাথ গোস্বামী ওরফে নরেন গোঁসাই। বিশ্বাসঘাতককে শেষ করতে হবে এই পন নিলেন কানাইলাল দত্ত। কানাইলাল, সত্যেন্দ্রনাথদের কাছে গোপনে পিস্তল পৌঁছে দিলেন মতিলাল রায়। তারপর আর কি! পুরো পরিকল্পনামাফিক গুলি মেরে উড়িয়ে নরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে উড়িয়ে দিলেন কানাইলাল। আদালতে কানাইলালকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে উনি কিভাবে পিস্তল পেলেন? উত্তর ছিল ক্ষুদিরামের আত্মা পৌঁছে দিয়েছে। হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে কানাইলাল বলেছিলেন- কালো কাপড় মুখে না পরাতে।

কানাইলাল দত্তের শবদেহ যখন বাইরে আসে তখন চারিদিক থেকে চলে আসে মানুষের ঢল। শবদেহ থাকা ঘাটটি ছুঁয়ে পেতে শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি, যেন ভগবানের দর্শন পেতে ব্যাকুল জনগণ। জয় কানাই, জয় কানাই ধ্বনিতে আন্দোলিত হয়ে উঠে সর্বত্র, শেষকার্য সম্পন্ন হলে চিতাভস্ম কেনার জন্য লাইন পড়ে যায়। আজ কানাইলাল দত্তের জন্মদিন। ভারত মাতার এই বীর সন্তানকে জানাই কোটি কোটি প্রণাম।