নতুন খবরভারতবর্ষ

হিজাব ইস্যুতে আদালতে পৌঁছাল কর্ণাটকের কলেজ ছাত্রী! বললো- ইসলামে এটা অনিবার্য, হিজাব পরেই ক্লাস করবো

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতের কর্ণাটকে ধর্মীয় স্বাধীনতার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে এল। কর্ণাটকের উদুপি জেলায় পি ইউ কলেজে এক মুসলিম তরুণী কর্ণাটকের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তরুণীর বক্তব্য তিনি বর্তমানে যে কলেজে পাঠরত সেখানে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরে শ্রেণী কক্ষ তো দূরের কথা কলেজ পরিসীমার মধ্যে ঢোকাও নিষিদ্ধ। আদালতে অভিযোগ দায়ের করার সময় তিনি বলেন যে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার এবং অন্য মুসলিম মেয়েদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন।

তরুনীর আরো দাবি, শ্রেণীকক্ষে হিজাব পরে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। সংবিধানে উল্লেখিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি আদালতের সামনে তার দাবী রাখেন। তিনি বলেন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের 14 এবং 25 নং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারে সমস্ত ভারতীয়দের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকারী। তিনি বলেন উক্ত 25 নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সমস্ত সম্প্রদায় সংরক্ষিত এবং সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার করতে সতন্ত্র।

তিনি আরও বলেছেন যে ইসলাম নারীদের হিজাব পরনে বাধা দিলে ইসলামের ধর্মীয় চরিত্রে পরিবর্তন আসে। সেই কারণে হিজাব ইসলাম ধর্মের এক অপরিহার্য ও অভিন্ন অঙ্গ। লক্ষণীয় যে উদুপী জেলার পি ইউ কলেজের হিজাব নিষিদ্ধের এই ঘটনাটি সর্বপ্রথম সামনে এসেছিলো 2 ই জানুয়ারি 2022 , সেই সময়ই ছয় জন মুসলিম শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষে হিজাব পরার বিষয়ে অনড় ছিলো।

কলেজ অধ্যক্ষ রুদ্র গৌড়া বলেছেন যে ছাত্রীরা কলেজ পরিসরে হিজাব পরতে পারে কিন্তু শ্রেণী কক্ষে হিজাব পরতে নিষেধ করা হচ্ছে। কলেজ অধ্যক্ষের মতে শ্রেণী কক্ষে অভিন্নতা ও একরূপতা বজায় রাখতে এই রকম করা হয়েছে। উদুপির বিধায়ক কে রঘুপতি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিতে 26 শে জানুয়ারি 2022 তারিখে বলেছেন রাজ্য সরকারের আদেশনুসারে কলেজে হিজাব পরতে পারবে না। কিন্তু এই সমস্ত বিভিন্ন কারণ তাদের পড়াশোনায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে তাই বিকল্প রাস্তা হিসেবে সেই সব ছাত্রীরা অনলাইন ক্লাস করতে পারে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

Related Articles

Back to top button