ইতিহাসনতুন খবরবিশেষ

ভয়ঙ্কর যুদ্ধে আফগান সেনাকে পরাজিত করে ভারত ভূমির রক্ষা করেছিলেন জটাধারী নাগা সাধুরা! পড়ানো হয় না ইতিহাসে

যুগে যুগে বিশ্বে নানা সভ্যতার উত্থান, পতন ও বিলুপ্তি ঘটেছে। তবে হিন্দুদের পবিত্রভূমি ভারতের সভ্যতা কালান্তরে বহু সংঘর্ষ চালিয়ে আজও টিকে আছে। হিন্দু সভ্যতার এমনভাবে সুদৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে সবথেকে বড় কারণ হল ভারতের ঋষি মুনি ও সাধুদের অবদান।

যদিও ভারতের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকগুলিতে সাধুদের অবদান সম্পর্কে কোনো অধ্যায় তো দূরের কথা দু লাইনও ঠিকঠাক লেখা নেই। স্মরণ করিয়ে দি, নেতাজি নামক যে আগ্নেয়গিরি ইংরেজদের ধূলিসাৎ করে ভারতে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তিনি গুরু হিসেবে বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দকে গুরু মেনেছিলেন। একইভাবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের গুরু ছিলেন স্বামী রামদাস। বলার তাৎপর্য এই যে ভারত দেশের উত্থানে সাধু, সন্ন্যাসীদের অবদান সবথেকে বেশি হলেও ইতিহাস বইতে উনাদের সঠিক স্থান দেওয়া হয় না।

শাস্ত্র ও শস্ত্রের জোরে সাধু সমাজ দেশকে বহু বার রক্ষা করেছেন। এমনি এক ইতিহাস গোকুল যুদ্ধের কাহিনী।গোকুল যুদ্ধঃ বিদেশী আক্রমনকারী আফগান সেনা ও নাগা সাধুদের মধ্যে হয়েছিল। যারা বলিউড সিনেমা দেখে অভ্যস্ত তাদের অনেকেই ধারণা নাগা সাধুদের সমাজ পাগল যারা ছাই মেখে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি কিছু ভারত বিরোধী সংবাদ মাধ্যমও নাগা সাধুদের খারাপ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখায়। তবে আসলে নাগা সাধু হওয়ার জন্য কঠোর শারীরিক ও মানসিক তপস্যার প্রয়োজন হয়।

নাগা সাধুদের হিন্দু ধর্মের কমান্ড বললেও ভুল হবে না। কারণ নাগা সাধুদের অবধুত উপাধি নেওয়ার জন্য নিজেকেই নিজের পিন্ডদান করতে হয় এবং বাকি জীবন ধর্মের জন্য সমর্পিত করতে হয়। বেশিরভাগ নাগা সাধু খালি হাতে জংলী পশুদের সাথে টক্কর নিতে বা তাদের বশীভূত করতে দক্ষতা অর্জন করে।

১৭৫৭ সালে যখন উন্মাদী আফগান সেনা ভারতীয় ধন সম্পত্তি লুটতে লুটতে ও মহিলাদের অপহরণ করতে করতে গোকুলে পৌঁছেছিল তখন নাগা সাধুরা যুদ্ধঃ ঘোষণা করেছিল। আফগান সেনারা গোকুলের সমস্ত মন্দির লুটপাট করার পরিকল্পনা বানিয়েছিল। যারপর ৫ হাজার নাগা সাধুর সেনা আফগান সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ে। আহমেদ শাহ আবদালির সেনাপতি প্রথমে নাগা সাধুদের মজার ছলে নিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধঃ শুরু হতেই নাগা সাধুদের রুদ্র রূপ দেখে আফগান সেনা পলায়ন শুরু করে। ইতিহাসবিদদের মতে এক একজন নাগা সাধু ১০ জন আফগান সেনাকে শেষ করেছিল। কিছু কিছু সাধু ১০০ জনকে পর্যন্ত এক শেষ করে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিল।

হর হর মহাদেবের শ্লোগানে আফগান সেনা ভয়ে কেঁপে উঠেছিল। ব্রহ্মচর্য এর বলের দরুন মাত্র ৫ হাজার নাগা সাধু আফগানদের বিশাল সেনাকে মুহূর্তের মধ্যে শবদেহ পরিণত করেছিল। জটাধারী নাগা সাধুদের যে উন্মাদীর দল মজার পাত্র মনে করেছিল সেই সাধুদের তান্ডব আফগান সেনার মধ্যে হাহাকার ছড়িয়ে দেয়। যারপর আফগান সেনা তাদের আরো সেনাকে যুদ্ধে আসার জন্য বলে। তা সত্ত্বেও জয় মা।ভবানী ও হর হর মহাদেব শ্লোগান দিয়ে নাগা সাধুরা যে তান্ডব করে তাতে যুদ্ধক্ষেত্র রক্তে লাল হয়ে উঠে। আফগান সেনার হার নিশ্চিত দেখে তাদের সেনাপতি বেঁচে থাকা বাকি সেনাকে নিয়ে পলায়ন করে। যুদ্ধে অনেক সংখ্যায় নাগা সাধুরাও বলিদান হয়েছিলেন তবে শেষমেষ আতঙ্কবাদীদের হারিয়ে গোকুলে ধর্মের জয় হয়।

Back to top button
Close