ভারতবর্ষভারতীয় সেনা

ক্যাপ্টেন মনোজ কুমার পান্ডে একা উড়িয়ে দিয়েছিলেন শত্রুদেশের ৫ টি বাঙ্কার, দখল করেছিলেন খালুবার এলাকা

“বিজয়ের আগে যদি মৃত্যু আসে তাহলে এটা বিশ্বাস করতে পারো যে আমি মৃত্যুকেও মেরে ফেলবো”- মনোজ কুমার পান্ডে (Manoj Kumar Pandey)। ভারতের স্বাধীনতা যে ঢাল, তরোয়াল ছাড়া পাওয়া সম্ভব ছিল না তা প্রত্যেকের জানা। শুধু ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নয় , তার পরেও এমন অনেক বীরযোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন যাদের জন্য আজ আমরা ভারতের মাটিতে খোলা হওয়ায় শ্বাস নিতে পারছি। যাদের মধ্যে একজন ছিলেন পরমবীর মনোজ কুমার পান্ডে যার উপর প্ৰত্যেক ভারতবাসী গর্ব করি।

ক্যাপ্টেন মনোজ কুমার পান্ডে কার্গিল যুদ্ধের ভারতের হারিয়ে যাওয়া একটা অংশ পুনরায় দখল করে ভারতবাসীকে উপহার দিয়ে শহীদ হয়েছিলেন। ২৫ শে জুন ১৯৭৫ সালে এই মহান বীর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভারতে যত যত মহান ব্যাক্তি জন্ম নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাদের জীবনে তাদের মায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মনোজ কুমারের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম ছিল না। মনোজ কুমারের মা ছোটো বেলা থেকে ছেলেকে বীর গাঁথা, ভারতীয় প্রাচীন বীরদের কাহিনী শোনাতেন। মনোজ কুমারের মনে দেশপ্রেমের সঞ্চার করার পেছনে সবথেকে বড়ো ভূমিকা উনার মায়ের ছিল।

শ্রদ্বেয় মনোজ কুমার পান্ডে খালুবারকে ভারতের সাথে মিলিয়ে বীরত্বের অমরকথা লিখে শহীদ হয়েছিলেন। জানলে অবাক হবেন মনোজ কুমার পান্ডে ৩ টি গুলি লাগার পরেও বীরত্বের সাথে এগিয়ে যান এবং পাকিস্তানের ৫ টি বাঙ্কারকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। কার্গিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই মনোজ কুমার সিয়াচেনে পোস্টিং ছিলেন। সেহেতু উনি চাইলে নিশ্চিন্তে ৩ মাসের ছুটি নিতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে উনি দেশের জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময়কে খালুবার জয়ের দায়িত্ব উনার কাঁধে পড়ে এবং উনকে লেফটিন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন রাঙ্ক এ প্রমোট করা হয়। উনার দুরন্ত নেতৃত্বের কারণে উনার টিম খালুবার দখল করতে সক্ষম হয়। সেই সময়েই শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে উনি বলিদান হন। তবে শহীদ হওয়ার আগে পাকিস্তানের ৫ টি বাঙ্কার উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

মনোজ কুমার পান্ডেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী যোগ দেওয়ার আগে ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কেন সেনাতে যোগ দিতে চান। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি পরমবীর চক্র জিততে চাই। আর যেমনটা উনি বলেছিলেন তেমনটাই করে দেখিয়েছিলেন তথা পরমবীর চক্র পেয়েছেন।

Related Articles

Back to top button