বিশেষভারতবর্ষ

বাঙালি হিন্দুদের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত যশোরেশ্বরী কালী মন্দির! পড়ানো হয় না ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে

ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এই সফরে উনি যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরও পরিদর্শন করবেন। আর সেই কারণে বাংলাদেশের সরকার এক সময়ের অবহেলিত মন্দির একেবারে ঝাঁ চকচকে করে সাজিয়ে তুলেছে বলে খবর সামনে আসছে। যদিও অনেকের দাবি মন্দির পরিসর বাংলাদেশ সরকার নয়, বরং স্থানীয় সনাতনী হিন্দুরা সাজিয়ে তুলেছেন। তবে এ নিয়ে নিয়ে বিতর্ক হলেও মূল কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম একটা যশোরেশ্বরী কালী মন্দির পরিদর্শন করবেন।

জানিয়ে দি, এই মন্দিরের সাথে বাঙালি হিন্দুদের  এক গৌরবময় ইতিহাস জড়িয়ে আছে। পুরান অনুযায়ী বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে সতী মায়ের হাতের তালু পড়েছিল। বলা হয় বঙ্গদেশের মহান হিন্দু রাজা প্রতাপাদিত্য মানুষের হাতের তালুর আকারের একখন্ড পাথর অলৌকিকভাবে পেয়েছিলেন। যারপর মায়ের পুজোর জন্য যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন প্রতাপাদিত্য।

jeshoreshwari kali temple

আরো বলা হয় হিন্দু রাজা প্রতাপাদিত্য ছিলেন মা কালীর প্রিয় পুত্র। কোনোভাবেই মুগলরা উনাকে পরাস্ত করতে পারতেন না। বার বার হারের মুখোমুখি হয়ে মায়ের বিগ্রহ চুরি করেন মুঘল সেনাপতি মানসিংহ। যারপর মনবল ভেঙে পরাস্ত হন প্রতাপাদিত্য।

কে ছিলেন সম্রাট প্রতাপাদিত্য?

সম্রাট প্রতাপাদিত্যের সম্পর্কে প্রথমত জানিয়ে দি, উনি ছোটো বয়সেই বাঘের সাথে যুদ্ধঃ করে নিজের বাহুবলে চোয়াল ছাড়িয়ে দিতেন। উনার অস্ত্রে ছিল স্বয়ং মা ভবানীর বাস। মুঘলদের অত্যাচারে যখন বাংলা তথা পুরো ভারতের হিন্দু সমাজে ভয় ও দুঃখের ছায়া তখন বাংলায় আবির্ভাব ঘটে মহা পরাক্রমী রাজা প্রতাপাদিত্যের।

যিনি জমিদারি থেকে শুরু করে হয়ে উঠেছিলেন এক মহান হিন্দু রাজা। যিনি মায়ানমারের কিছু এলাকা পর্যন্ত দখল করে নিয়েছিলেন। বর্তমানের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, যশোর সব এলাকা ছিল তার রাজত্বের অংশ। সংস্কৃতি ভাষায় দক্ষ ও বেদ পাঠে ছিল তার বিশাল পান্ডিত্য। রাজা প্রতাপাদিত্যের যশোহর সাম্রাজ্যের খ্যাতি সেই যুগে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রতাপাদিত্য এর বিশাল সেনাবাহিনী

মুঘলরা তিন তিন বার উনার রাজ্যকে লুট করার জন্য বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। তবে মা কালীর পরম ভক্ত প্রতাপাদিত্য এর মহাসেনার সামনে মুঘল সেনা টিকতে অক্ষম ছিল। প্রতাপাদিত্যের আমলে রাজ্য জুড়ে শান্তি ফিরে আসে,মানুষজন আরো একবার সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনযাপন শুরু করে। রাজ্যকে শত্রুদের থেকে রক্ষা করতে গড়ে তোলা হয় বিশাল সেনাবাহিনী, সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয় নৌশক্তির উপর। অশ্বরোহি, তীরন্দাজ, গোলন্দাজ ইত্যাদি ৯ ভাগে বিভক্ত ছিল সেনাবাহিনী।

হিন্দু রাজের উত্থান

১৫৯৫ থেকে ১৫৯৮ পর্যন্ত রাজা প্রতাপাদিত্য মুঘলদের সাথে টানা তিনটি যুদ্ধ করেছিলেন। তিনটি যুদ্ধে হিজলপতি ঈশা খাঁ, মুঘল সেনানী শের খাঁ ও ইব্রাহিম খাঁকে পরাজিত করেছিলেন। ১৫৯৯ সালে আকবরের বশ্যতা অস্বীকার করে তার যশোরের সর্বাত্মক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এইভাবেই বঙ্গদেশে হিন্দু রাজ শক্তির অভ্যুত্থানের ঘটনা দ্রুতবেগে পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

এমন মহান হিন্দু রাজার বীরত্ব ভারতবর্ষের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়লে হিন্দু সমাজ অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখতে শুরু করে। মুঘলরা বুঝতে পারে বাংলা থেকে বিশাল এক রাষ্ট্রবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে যা পুরো ভারতে বিদ্যুতের বেগে ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতাপাদিত্য

বেশকিছু দশক ধরে মহারাজা প্রতাপাদিত্যের কাছে মার খাওয়ার পর মুঘলরা ভারতের কিছু লোভী রাজাদের সাথে মিলে প্রতাপাদিত্যের উপর আক্রমন করেন। সেই যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করেও, নিজের পরিবারকে বলিদান দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। পতন ঘটে এক মহান হিন্দু শাসকের সময়কাল।

Related Articles

Back to top button