Press "Enter" to skip to content

দিবের যুদ্ধ: বিজয়া দশমীর দিন মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে মুঘলদের বিশাল সেনাকে ধূলিসাৎ করেছিলেন মহারানা প্রতাপ

শেয়ার করুন -

ভারতবর্ষের প্রত্যেক কোনে যখন মুঘল শক্তি নিজের চরম শিখরে পৌঁছাচ্ছিল সেই সময় পূর্ব ভারতে ও পশ্চিম ভারতে হিন্দু শক্তির উত্থান হতে শুরু করে। মহারানা প্রভাপ সেই হিন্দু শক্তির এক জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন। মহারান প্রতাপ সেই রাজা যিনি মুঘল সম্রাট আকবরের অধীনতা গ্রহণ করেননি। আকবরের সেনাবাহিনী তার মোকাবিলা করতে না পারায় কয়েকবার পালিয়েও যায়। হলদিঘাটির যুদ্ধ সম্পর্কে সকলেই জানে, তবে হলদিঘাঁটির যুদ্ধের পর অক্টোবোর ১৫৮২ সালে হয় দিবের যুদ্ধে।

এই যুদ্ধ সম্পর্কে ইতিহাস বইতে খুব কম লেখা থাকে। দিবের যুদ্ধকে ইংরেজ ঐতিহাসিকরা ম্যারাথন অফ মেবার বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই যুদ্ধ হিন্দুদের গোলামী মানসিকতা ভেঙে পুনরায় সনাতনীদের উত্থানের একটা বড়ো উৎসাহ প্রদান করেছিল। যুদ্ধের সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঐতিহাসিকরা বলেছেন, হিন্দুদের এই সেনা তাদের থেকে ৪ গুন বড়ো সেনাকে পরাজিত করতে সক্ষম ছিল। মহারানা প্রতাপ স্থানীয় ভিল, মুণ্ডাদের নিয়ে একটা বড়ো গেরিলা সেনা তৈরি করেছিলেন। মেবারকে স্বাধীন করার লড়াইতে এই সেনাকে দু ভাগে বিভক্ত করে মুঘল উপর আক্রমন হানে।

এই যুদ্ধ মহারান প্রতাপ ও মুঘল সেনার মধ্যে হয়েছিল। যুদ্ধে মুঘল সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এক দিকে থেকে মহারানা প্রতাপ নিজে নেতৃত্ব করছিলেন তো অন্যদিকে উনার পুত্র নেতৃত্ব করছিলেন। বিজয়া দশমীর দিন শুরু হয় ভীষণ যুদ্ধ। মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে মা ভবানীকে স্মরণ করে শুরু হয় মুঘল বিনাশের পর্ব। মহারান প্রতাপের ছেলে অমর সিং তারা ভাল মুঘল সেনাপতির উপর এত শক্তির সাথে ছোড়েন যে ঘোড়া সহ সেনাপতির বুক চিঁরে ভাল মাটিতে গেঁথে যায়।

অন্যদিকে মুঘলদের নেতৃত্বকারী বেহলল খানকে ঘোড়া সমেত দু-টুকরো করে দেন মহারান প্রতাপ। যুদ্ধে মুঘল সেনা পরাস্ত হয় এবং বেঁচে থাকা সেনা মহারানা প্রতাপের কাছে আত্মসমর্পণ করে। মহারানা প্রতাপ প্রায় ৭ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা ছিলেন। এবং তিনি প্রায় ১১০ কেজির কবচ পরতেন, কিছু জায়গায় কবচের ওজন ২০৮ ​​কেজিও লেখা আছে। তিনি ২৫-২৫ কেজির ২টি তলোয়ারের ভিত্তিতে যে কোনও শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। তাঁর কবচ ও তরোয়ালগুলি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।