বিশেষভারতবর্ষ

আধা ঘণ্টা ধরে রাস্তায় পড়েছিল দেশের প্রধানমন্ত্রীর শবদেহ, সোনিয়া গান্ধী খুলতে দেননি পার্টির মুখ্যালয়!

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পার্থিব শরীর রাস্তায় আধা ঘন্টা ধরে এই অপেক্ষায় পচছিল যে উনার পার্টির মুখ্য অফিস খুলে দেওয়া হোক। আমরা কথা বলছি নরসিমা রাও মহাশয়ের। যিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ও কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা ছিল। পি. ভি. নরসিমা রাও (pv narasimha rao) এর দুটি ভুল ছিল। এক উনি গান্ধী পরিবারের লোক ছিলেন না। বলা হয় উনার দ্বিতীয় ভুল ছিল, উনি ইতালির সোনিয়া গান্ধী উরফ এন্টোনিয়া মিয়ানোর কথামত চলতেন না। প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও একজন মহান দেশভক্ত ব্যাক্তি ছিলেন যিনি ভারতকে শক্তিশালী করার জন্য কারোর সামনে ঝুঁকতে রাজি ছিলেন না। ইনিই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যিনি ক্যান্সার সহ নানা রোগ উৎপাদনকারী বিদেশী কোল্ডড্রিঙ্কস কোম্পানিগুলিকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নরসিমা রাও দিল্লীর এইমসে পরলোক গমন করেছিলেন। উনার দেহ এইমস থেকে দিল্লীর কংগ্রেস মুখ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শবদেহ মুখ্যালয় অবধি পৌঁছেছিল। কিন্তু ইতালির সোনিয়া গান্ধী মুখ্যমন্ত্রী খোলার অনুমতি দেননি বলে অভিযোগ উঠে। ওই সময় সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি পদে বসে পুরো পার্টিকে কবজা করে নিয়েছিলেন।

অভিযোগ করা হয়, আধা ঘন্টা ধরে রাস্তায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দেহ পচছিল কিন্তু এন্টোনিয়া মিয়ানো পার্টির মুখ্যালয় খোলার অনুমতি দেননি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পার্থিব শরীরের সাথে এমন অনাচার করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী। নরসিমা রাও এর পরিবার উনার অন্তিম কার্য দিল্লীতে করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সোনিয়া তা করতে দেননি বলেও অভিযোগ উঠে। উনার পরিবার চেয়েছিল উনার দেহ একবার কংগ্রেস পার্টির মুখ্যালয়ে প্রবেশ করানো হোক। যাতে কার্যকর্তারা উনাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে পারে। কিন্তু সোনিয়া মুখ্যালয়ের গেট খুলতে মানা করে দেন বলে অনেকে অভিযোগ তোলেন।

নরসিমা রাও এর পরিবার চেয়েছিল দিল্লীতে উনার একটা মেমোরিয়াল তৈরি করতে। কারণ উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং দিল্লীতে থেকে দেশের সেবা করতেন। পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নরসিমা রাও এর শবদেহ অন্ধ্রপ্রদেশ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা বেশি পুরানো নয়, ২০০৪ সালের ঘটনা। এখন সম্প্রতি নরসিমা রাও এর জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা প্রসঙ্গে আবারও বিষয়টি চর্চায় এসেছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুজন ঘটনাটিকে স্মরণ করে কংগ্রেস পার্টি বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধীকে আক্রমন করেছেন।

Back to top button
Close