Press "Enter" to skip to content

রানী দুর্গাবতী: ৫১টি যুদ্ধের একটাতেও পরাজিত হননি! বর্বর মুঘল সৈনিকদের করেছিলেন কচুকাটা

শেয়ার করুন -

ভারতের ইতিহাস গৌরব ও সহসিক উদাহারনে পরিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও পাঠ্যপুস্তকে কেন ভারতীয়দের শুধুমাত্র গোলামি মানসিকতার ইতিহাস পড়ানো হয় তা একটা বড়ো প্রশ্ন। ভারতের এমন বহু হিন্দু রানীর ইতিহাস রয়েছে যারা নারী শক্তির উচ্চতর দৃষ্টান্ত পেশ করে ভারতের মাটিকে গৌরবান্বিত করেছিলেন। আজ আমরা India Rag এর পাঠকদের এমনই এক রানির গৌরগাথা জানাবো যিনি মোট ৫১ টি যুদ্ধ লড়েছিলেন।

ঘটনা সেই সময়ের যখন ভারতের মাটিতে বিশ্বাসঘাতকতার বীজ দিকে দিকে ভ্রূণ হয়ে ফুটতে শুরু করেছিল। কিছু রাজা সামান্য লোভের কারণে বিদেশী লুটেরাদের সাথে মিলিত হয়ে দেশকে লুন্ঠন করতে ব্যাস্ত ছিল। অন্যদিকে বর্বর উন্মাদী মুঘলরা হিন্দুদের পবিত্রভুমিকে রক্তাক্ত করার জন্য অস্ত্র চালাচ্ছিল। সেই সময় ৫ অক্টোবর ১৫২৪ সালে মোহবাতে জন্ম নিয়েছিলেন রানী দুর্গাবতী (Rani Durgavati)। মোহবার রাজা ছিলেন দুর্গাবতী পিতা। ছোটো থেকে দুর্গাবতী অত্যন্ত সাহসী এবং ধার্মিক ছিলেন।

ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ, তির- তরোয়াল চালানো শিখেনিয়েছিলেন। দুর্গাবতী বিয়ে গন্ডওয়ানার রাজা দলপতি শাহের সাথে হয়েছিল। বিয়ের ১ বছর পর দুর্গাবতী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। যার নাম রাখা হয়েছিল বীর নারায়ণ। কিন্তু বীর নারায়ণ যখন মাত্র ৩ বছরের তখন দলপতি শাহের মৃত্যু হয়। দুর্গাবতী ধর্য্য ও সাহসিকতার সাথে রাজ্যের পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ শুরু করেন। রানী তার রাজ্যের ২৩,০০০ গ্রামকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলেন। সেনায় ৭০ হাজার লোক ও ২৫০০ হাতি নিযুক্ত করেন।

প্রখর বুদ্ধিমান ও চতুর মন্ত্রী আধার সিং এর সাহায্যে দুর্গাবতী রাজ্যের সীমা বিস্তৃত করেন। রানী তার সময়কালে ৫১ টি যুদ্ধ লড়েছিলেন এবং একটা যুদ্ধেও পরাস্ত হননি। দুর্গাবতী রাজ্যের কথা আকবরের সভা অবধি পৌঁছে যায়। আকবরের মন্ত্রীরা দুর্গাবতীর রাজ্যে আক্রমন করে লুটপাট ও চুরি ডাকাতির পরার্মশ দেয়। পরামর্শ শোনা মাত্র কামুক, লম্পট, ব্যভিচারী আকবর রাজি হয়ে যায়। আকবর তার অসফ খান নামের এক সর্দারকে দুর্গাবতীর রাজ্যের উপর আক্রমন করার নির্দেশ দেয়। এদিকে রানী দুর্গাবতী সেনা প্রস্তুত ছিল দেশের শত্রুদের বুক চিরে রক্তাক্ত করার জন্য।

অসফ খানের সেনা আক্রমন করলে দুর্গাবতীর সেনা পাল্টা আক্রমন করে এবং মুঘলদের সেনাকে পরাজিত করে। অসফ খানের সেনার লজ্জাজনক হারের কথা শুনে কামুক, লম্পট আকবরও লজ্জিত হয়ে পড়ে। দেড় বছর পর আবার অসফ খান আক্রমন করে। সাথে কামান নিয়ে এসে অসফ খান আক্রমন শুরু করে। তবে রানী হার না মেনে হাতির উপর চেপে সেনার নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। যুদ্ধ চলাকালীন রানী মুঘল কামান চালকের মাথা দেহ থেকে আলাদা করে দেন। কামান চালনাকারীদের মাথা কাটা পড়েছে দেখেই বাকি মুঘল সেনা ভয়ে পলায়ন করে।

দুর্গাবতীর সাম্রাজ্যে সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সেই সময় রানী দুর্গাবতীর রাজ্যের এক সর্দার বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং রাজ্যের সুরক্ষা ব্যাবস্থার মানচিত্র মুঘলদের হাতে তুলে দেয়। অসফ খান বদলা নিতে তৃতীবার আক্রমন করে। এবার রানী নিজের ছেলের নেতৃত্বে সেনা প্রেরণ করে নিজে একটা টুকরো সেবার সাথে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নামেন। যুদ্ধ চলাকালীন রানী দুর্গাবতীর ১৫ বছরের ছেলে আহত হয়ে পড়েন। বাকি সেনাকর্মীরা রাণীর কাছে প্রার্থনা করেন রানী যেন ছেলের অন্তিম দর্শন করেন। রানী উত্তর দেন এবার দর্শন দেবলোকে হবে এখন হাতে সময় নেই। রানী মনকে আরো শক্ত করে রাজ্যকে বর্বরদের হাত থেকে বাঁচাতে যুদ্ধকে আরো তীব্র করেন।

যুদ্ধক্ষেত্রের মাটি রক্তে লাল হয়ে উঠে। রানীর তরোয়ালের আঘাতে শত্রু সেনার একের পর এক মাথা মাটিতে পড়তে থাকে। হটাৎ শত্রুদের একটা তির রানির চোখের মধ্যে গিয়ে লাগে। রানী তিরকে টেনে চোখ থেকে বের করেন। কিন্তু আবার আরো একটা তির রানির গলায় এসে আঘাত করে। রানী বুঝতে পারেন মৃত্যু নিকট এসেছে। রানী তার সেনাকে বলেন তাদের মধ্যে কেউ তার গলা কেটে দিক। সেনা এমন কাজ করতে অস্বীকার করে। তৎপর রানী নিজেই নিজের অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নেন এবং বলিদান দেন।

রানী চাননি শত্রুদের কেউ তার জীবিত শরীর স্পর্শ করুক। ২৪ শে জুন ১৫৬৪ সালে রানী দুর্গাবতী বলিদান দেন। জব্বলপুরের যে স্থানে রানী দুর্গাবতী বলিদান দিয়েছিলেন ওই স্থানে উনার সমাধি রয়েছে। এলাকার লোকজন ওই স্থানে গিয়ে আজও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। রানির নামে এলাকায় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণও করা হয়েছে।