আন্তর্জাতিকনতুন খবরভারতবর্ষ

যেভাবে আমেরিকাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল ভারত-রাশিয়া, তাকিয়ে দেখেছিল গোটা বিশ্ব

নয়া দিল্লিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তে তার প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং মার্কিন গোয়েন্দারা পরামর্শ আশঙ্কা জাহির করে বলেছে যে, মস্কো ২০২২-এ বছরের শুরুতে দেশটিতে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই কারণেই বাইডেন প্রশাসন ভ্লাদিমির পুতিনকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সাথে সতর্ক করেছে, যদিও আমেরিকান সামরিক শক্তির ব্যবহার আপাতত টেবিলের বাইরে রাখা হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও তাই হবে।

ওয়াশিংটন মস্কোকে SWIFT (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং এমনকি বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য এর নিজস্ব পরিণতি হতে পারে।

রাশিয়ার অবিলম্বে একটি ইমেজ বুস্টার দরকার। উল্লেখ্য, ভ্লাদিমির পুতিন করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ছেড়ে বের হননি, তবে তিনি বাইডেনের সঙ্গে একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য জেনেভায় উড়ে গিয়েছিলেন। এরপর গত ডিসেম্বর মাসে ভ্লাদিমির পুতিন পাঁচ ঘণ্টার সফরের জন্য ভারতে এসেছিলেন, এই সময়ে তিনি তার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং অন্তত ২৮টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের তদারকি করেছিলেন৷ মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ছিল রাশিয়ার বাইরে পুতিনের দ্বিতীয় সফর। এটি যে ওয়াশিংটনে অনেক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

গত ডিসেম্বর মাসে নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাক্ষাৎ সমগ্র বিশ্ব দেখেছিল, তাঁরা এটাও দেখেছিল যে ভারত এবং রাশিয়া একে অপরকে আলিঙ্গন করেছে। এমন এক সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তখন ভারত উভয় হাত উন্মুক্ত করে পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র CAATSA (Countering America’s Adversaries Through Sanctions Act) নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করলেও, ভারত সেই হুমকি উড়িয়ে রাশিয়ার সঙ্গে S-400 এর চুক্তি করেছে, এবং এর প্রথম খেপ দেশে চলেও এসেছে। চুক্তি পূরণ হতে দেখেও আমেরিকা শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

শীর্ষ সম্মেলনে তার টেলিভিশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে পুতিন ভারতকে একটি “মহান শক্তি” এবং একটি সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, রাশিয়া ভারতের সাথে সামরিক-প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে অংশীদার হয়ে এমনভাবে কাজ করে যা আর কারও সঙ্গে করা হয় না।

এরপর নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর এটি পুতিনের দ্বিতীয় বিদেশ সফর ছিল এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি তার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। মোদী আরও বলেছিলেন, বিশ্ব মঞ্চে অনেক মৌলিক পরিবর্তন সত্ত্বেও ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্ব “স্থির রয়েছে” এবং দুই দেশ একে অপরের সংবেদনশীলতার দিকে মনোযোগ দিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে।

দুই দেশের প্রধানই তাঁদের ভাবভঙ্গি এবং কথাবার্তায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁরা ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্ব অটুট রাখতে কোনও বাধা মানবেন না, সেটা আমেরিকার তরফ থেকেই হোক না কেন। একেতেই নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ চুক্তি এবং পুতিনকে দেশে ডেকে তাঁকে অভ্যর্থনা দেওয়ায় জো বাইডেন এটা বুঝে গিয়েছেন যে, তিনি ভারতকে কোনও হুমকি দিয়ে আটকাতে পারবেন না। আর মোদী-পুতিনের এই বন্ধুত্বে যে ওনার মনে অনেক ব্যথার সৃষ্টি করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Articles

Back to top button