নতুন খবরভারতবর্ষভারতীয় সেনা

বিনামূল্যে ৫ টন তরমুজ দিতে চেয়েছিল কৃষক! টাকা দিয়ে কিনে নিলেন আর্মি জওয়ানরা

লকডাউনের কারণে দেশের অর্থব্যাবস্থার উপর গম্ভীর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কৃষক সমাজের উপর এই লকডাউন অভিশাপের মতো এসে পড়েছে। একদিকে লকডাউন অন্যদিকে পূর্ব ভারতে লাগাতার একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পূর্ব ভারতের ফসল উৎপাদন কম হয়েছে আর যে টুকু হয়েছে তা সঠিকভাবে বিক্রি হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের এমন সমস্যার মধ্যেও এক ইতিবাচক খবর ঝাড়খণ্ডের বোকারো থেকে আসছে। আসলে ঝাড়খণ্ডের তরমুজ চাষ করা কৃষকরা লকডাউনের কারণে তাদের ফসল ঠিকমতো বিক্রি করতে পারেননি। লকডাউন না থাকলে মানুষজন বাজারে বেশিক্ষণ থাকার কারণে তরমুজ কেনাকাটি করে। তবে এখন লকডাউন তরমুজের বিক্রির উপর লাগাম পড়েছে। খুব কম সংখ্যায় মানুষ তরমুজ কিনছেন।

বোকারোর এক যুবক কৃষক রঞ্জন কুমার মাহাতো তরমুজের চাষ করেছিলেন। তার তরমুজ বিক্রি হয়নি যে কারণে উনি তরমুজগুলিকে কিভাবে নষ্ট না করে বিলি করা যায় তার উপর বিবেচনা করছিলেন। রঞ্জন কুমার মাহাতো নিকটবর্তী আর্মি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। আর্মি ক্যাম্পে তিনি সমস্ত তরমুজ বিনামূল্যে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে রঞ্জন কুমার বিনামূল্যে তার ৫ টন তরমুজ নিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তবে সেনা কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে তরমুজ গ্রহণ না করে বাজারের দরে তরমুজ কিনে নেয়। শিখ রেজিমেন্টের কামান্ডেন্ট রঞ্জন কুমারের খেতে পৌঁছেছিলেন এবং সবকিছু দেখার পর তরমুজ কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, রঞ্জন কুমার রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন। এরপর তিনি কৃষিকাজে নেমে পড়েছেন। সেনা কর্তৃপক্ষ রঞ্জন কুমারের কাজ দেখে খুব প্রভাবিত হয় এবং সমস্যা লক্ষ করে ৫ টন তরমুজ কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রঞ্জন কুমারের খেতে ১২০ টন তরমুজ হয়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষ ৫ টন কিনে নেওয়ার পর তিনি বাকি তরমুজ বিক্রির বিষয়ে একটু উৎসাহ পেয়েছেন তথা চেষ্টা শুরু করেছেন।

Related Articles

Back to top button