নতুন খবরবাংলাদেশ

যদি হামলাকারীদের কোনো ধর্ম হয় না, তাহলে এগুলো যারা করল তারা কারা: বাংলাদেশ ইসকন

একটি উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সমগ্র বাংলাদেশ উত্তপ্ত। অষ্টমীর দিন কুমিল্লার নানুয়া দিঘির পাড়ে একটি পূজা মন্ডপে ভাঙচুর চালায় ধর্মান্ধ জনতার দল। সেখান থেকে শুরু করে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় মন্দির ও পূজা মন্ডপে ভাঙচুর করা হয়। গণধর্ষণের শিকার হয় হিন্দু মহিলারা। ১০ বছর বয়সী গণধর্ষণের শিকার শিশু কন্যা হারায় প্রাণ‌।

১৫ ই অক্টোবর ২০২১ নোয়াখালী ইসকন মন্দির সহ বিগত কয়েকদিনে কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রামের জেমসন হল সহ বিভিন্ন মন্দির, দূর্গা পূজা মন্ডপ, সনাতন ধর্মালম্বীদের ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়ে ইসকন বাংলাদেশের বিবৃতি পেশ করছে।

হরে কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, সাধারণ সম্পাদক ইসকন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন, বরাবরের মত ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট করে আনন্দকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী। বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর এবং স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ার জন্য কুমিল্লা, চাঁদপুর নোয়াখালী ,চট্টগ্রাম, কক্সবাজার সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমার পাশাপাশি হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুপরিকল্পিত ভাবে হামলা চালায় ধর্মান্ধ জনতার দল। তার‌ই ধারাবাহিকতায় ইসকন মন্দিরে অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। এর আগে সকাল থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে তারা।

তিনি আরও বলেছেন, আগে থেকেই স্থানীয় ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ মোবাইলের মাধ্যমে নিকটবর্তী থানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারবার অনুরোধ জানায় কিন্তু সেই অনুরোধে কর্ণপাত করেননি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। প্রশাসনের অবহেলায় সুযোগ নিয়ে উগ্রপন্থী ধর্মান্ধরা মন্দিরে হামলা চালানোর সুযোগ পায়। দুই দফায় হামলার মাধ্যমে শ্রী জগন্নাথ দেবের রথ সহ, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যানবাহন, তিনটি মোটরসাইকেল এবং আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত সামগ্রী, ভোকেশনাল কম্পিউটার, প্রিন্টার, সিসিটিভি, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। পরিকল্পিতভাবে নিমাই চন্দ্র দাস, কার্তিক চন্দ্র সাহা ও শিন্টুস রঞ্জন দেবনাথের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয় এবং মন্দিরের সামনে যতন সাহা নিহত হয়। প্রান্ত চন্দ্র দাস নামে এক ভক্তকে হত্যা করে তার দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় এবং পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

তাঁর গলায় ঝড়ে পড়েছে আক্ষেপের সুর। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার ধর্মান্ধ প্রকাশ্য রাজপথে মিছিল করে মন্দিরে হামলা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে যদি বিচার হতো তবে সহিংসতাকারীরা আজ প্রকাশ্যে দিবালোকে মিছিল করে এ ধরনের হামলার সুযোগ পেত? এদিকে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, সন্ত্রাসকারীদের কোন‌ও ধর্ম হয় না তবে ধর্মীয় লেবাস পরে ধর্মীয় স্থান থেকে বের হওয়া হামলাকারীরা কারা? এদের পরিচয় জাতির সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হোক। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রশ্ন করতে হয় প্রশাসনিক ব্যর্থতা কারণে সংঘটিত এই হামলার দায় কে নেবে? মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর করা কি অপরাধের মধ্যে পড়ে না? সনাতন ধর্ম পালন করাই কি তাদের অপরাধ?

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন, এই ধরনের অপরাধের বিচার একান্ত কাম্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সহযোগিতা করছে না। আমরা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, এই সমস্ত দুষ্কৃতিকারীদের জনসমক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা এদেশে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও নিজ নিজ ধর্মপালনের সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন চাই। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আহতরা যাতে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা পায় এবং নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্ষতিগ্রস্ত গৃহ প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোর ক্ষতিপূরণসহ পুনঃনির্মাণের দাবি জানানো হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button