নতুন খবরভারতবর্ষ

মহাকাশ ক্ষেত্রে বড়ো উদ্যোগ ইসরোর! ভারত তৈরি করছে বাহুবলী রকেট

সমস্ত প্রতিকূলতা এবং বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে পৃথিবীর বুকে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বর্তমানে ভারত হয়ে উঠেছে অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি নাম। বর্তমানযুগে সমগ্র বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষণায় প্রতিনিয়ত যে বৈপ্লবিক কাণ্ড ঘটে চলেছে সেখানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে ভারতবর্ষ। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর প্রধান লক্ষ্যই হল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাকে শুধুমাত্র উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, ক্রমাগত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা বৃদ্ধি করা এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

বাহুবলী রকেট তৈরির উপর চলছে কাজ

ভারতের কাছে এখন ৪ টন বহন ক্ষমতাসম্পন্ন রকেট রয়েছে। ভারত সেই ক্ষমতা বৃদ্ধির উপর কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি ভার্চুয়াল মোডে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) আয়োজিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে বক্তব্য রাখার সময় ইসরোর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ISRO ৪.৯ টন থেকে ১৬.৪ টন বহন ক্ষমতাসহ মাঝারি থেকে ভারী লিফট রকেটের ব্যবহারের জন্য ভাবনা চিন্তা করছে।

মোটা মুনাফা কামাচ্ছে ISRO

জানিয়ে দি, সম্প্রতি ISRO দেশের জন্য গবেষনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার আমদানি করতেও বড়ো ভূমিকা পালন করছে। কারণ কম খরচে স্যাটেলাইট লঞ্চ করার দরুন আমেরিকা সহ বেশকিছু দেশের বহু অর্ডার ISRO এর হাতে আসছে। যা থেকে মোটা মুনাফা কামাচ্ছে দেশ।

ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) এর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম অফিস (CBPO) এর পরিচালক এন সুধীর কুমার বলেছেন, পাঁচটি রকেট প্রকল্প রিপোর্ট পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো কার্যকর করা হবে। ইসরো এখন কেবল নিজস্ব উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতেই পারে না বরং বৈশ্বিক যোগাযোগের জন্য উপগ্রহ উৎক্ষেপণের বাজারেও প্রবেশ করতে পারে।

কুমার আরও বলেছেন, যে ইসরো জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ জিএস‌এল-এমকে৩ ( GSLV-Mk III) আপগ্রেড করার কাজ করছে যা এখন চার টন পর্যন্ত ওজন নিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত রকেট উপগ্রহগুলিকে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বের করে দেয়। জিটিও থেকে স্যাটেলাইটগুলিকে তাদের ইঞ্জিনে ফায়ার করে জিওস্টেশনারি কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারত চার টনের ওজনসম্পন্ন যোগাযোগ উপগ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে অ্যারিয়েন্সস্পেস এরিয়ান রকেট ব্যবহার করে। কুমারের মতে, ইসরো জিএসএলভি-এমকে ৩ এর উত্তোলন ক্ষমতাকে ছয় টন এবং ৭.৬ কে জিটিওতে বিকশিত করার জন্যও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ছয় টন উত্তোলন ক্ষমতা এভিওনিক্সের ক্ষুদ্রায়ণের বিভিন্ন পর্যায়ে ইঞ্জিন, স্ট্রাকচারাল ভর অপটিমাইজেশন এবং অন্যান্য কাজগুলো করা হবে। কুমার বলেছেন, যে ইসরোর আধা-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন- খাঁটি কেরোসিন দ্বারা চালিত ইঞ্জিন। এটি খুব শীঘ্রই জিএসএলভি-এমকে ৩ কে শক্তি দেবে যাতে রকেট ৭.৫ টন পেলোড থেকে একটি আপগ্রেডেড ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন দিয়ে জিটিওতে যেতে পারে।

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ গবেষণার উন্নতিকল্পে ঐকান্তিক প্রচেষ্টার উপর ভিত্তি করে বর্তমানে ভারত বিশ্বে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একেবারে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আমরা আশা করতেই পারি, সেদিন আর বেশি দূরে নেই যখন আমাদের দেশ ভারত বর্ষ আবার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে স্থাপন করবে দৃষ্টান্তের পর দৃষ্টান্ত এবং পথ দেখাবে সমগ্র পৃথিবীকে।

Related Articles

Back to top button