আন্তর্জাতিকভারতবর্ষ

কারখানার লেবার থেকে মাছ বিক্রি, বাদ দেননি ছোট থেকে ছোট কাজ! এবার হতে চলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

নয়া দিল্লীঃ জাপানের (Japan) নতুন প্রধানমন্ত্রী রুপে সরকারের মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব ইশোহিদে সুগা’র (Yoshihide Suga) নাম উঠে এসেছে। জাপানের ক্ষমতায় থাকা লিবেরাল ডেমোক্র্যাটিক দল সোমবার সুগা কে নিজেদের দলের নেতা বানিয়েছেন। সুগা সোমবার লিবেরাল ডেমোক্র্যাটিক দল আর আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া নির্বাচনে সহজেই জয় হাসিল করে নিয়েছেন। উনি ৫৩৪ টির মধ্যে ৩৭৭ টি ভোট পান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে (Shinzo Abe) শারীরিক সমস্যার সন্মুখিন হওয়ার ফলে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

৭১ বছর বয়সী সুগা’র জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সফর রোমাঞ্চক কাহিনী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সুগা’র বাবা স্ট্রবেরির চাষ করতেন। সুগা জাপানের অকিতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সুগা নিজের ‘ল” এর পড়াশোনা হোসেই বিশ্ববিদ্যালয় টোকিয়ো থেকে করেছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হল, এটিই ছিল জাপানের সবথেকে স্বল্প খরচের বিশ্ববিদ্যালয়। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সাথে সাথে পড়ার খরচের জন্য একটি কারখানাতে পার্টটাইম জব করতেন। এমনকি উনি মাছও বিক্রি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর সুগা হাউস ইলেকশন ক্যাম্পেনের জন্য কাজ শুরু করেন। সুগা’র না কোনও রাজনৈতিক কানেকশন ছিল, আর না কোনও অভিজ্ঞতা। কিন্তু নিজের কঠোর পরিশ্রম আর সমাজে বদল আনার অদম্য ইচ্ছের কারণে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য প্রতিবদ্ধ হন। উনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার অভিযান শুরু করেন। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, উনি ভোটে দাঁড়ানোর পর ৩০ হাজার বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচার করেন। যেটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি।

এমনকি এও শোনা গিয়েছে যে, নির্বাচন শেষ হতে হতে ওনার ছয় জোড়া জুতো ছিঁড়ে গিয়েছিল। জাপানের ব্যস্ত ট্রেন স্টেশনে রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়ার প্রথা সুগা’র হাত ধরেই আসে বলে জানা যায়। আর ওনার এই অভিযান এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, অনেক রাজনৈতিক নেতাই ওনার এই অভিযানের নকল করে স্টেশনে নির্বাচনী প্রচার চালানো শুরু করেন। জাপানের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানান, সুগা একজন সেলফ মেড ম্যান।

ওনার সফলতার পিছনে লড়াইয়ের অনেক কাহিনী আছে। সুগা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে ২০১২ সাল থেকে একে অপরের সঙ্গে আছেন। সুগা কে অ্যাবের ডান হাত বলেই জানা যেত। জাপানে সুগাকে জন দরদী নেতা হিসেবেই জানা যায়। আর ওনাকে নিয়ে এই কথাও প্রচলিত আছে যে, পিছনে থেকে উনি অনেক বড়বড় সিদ্ধান্ত নেন, যেটি সরকার এবং দেশের নাগরিকদের জন্য প্রভাবশালী হয়।

Back to top button
Close