নতুন খবরভারতবর্ষ

নাগরিকত্ব বিল এনে মোদী সরকার ভারতের সেকুলারিজমকে উপড়ে ফেলে দিল: জাভেদ আলী খান, সমাজবাদী পার্টির নেতা।

লোকসভায় পাস হওয়ার পর এবার নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (Citizenship Amendment Bill) নিয়ে রাজ্যসভায় চর্চা শুরু হয়েছে। আজকেই রাজ্যসভায় বিল পাস হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ৯ তারিখ লোকসভায় এই বিল নিয়ে চর্চা দারুন জমে উঠেছিল। যেখানে বিলের উপর বিরোধীদের বিরোধিতার পর অমিত শাহ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কংগ্রেস পার্টিকে এক হাতে নেন। অমিত শাহ লোকসভায় বলেছিলেন যদি কংগ্রেস পার্টি ধর্মের ভিত্তিতে দেশের বিভাজন না করতো তবে আজ এই বিলের প্রয়োজন হতো না। আজ রাজ্যসভাতেও অমিত শাহ একশন মুডে ছিলেন।

আজ রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেন, ভারতে থাকা মুসলিমরা ভারতের নাগিরিক এটা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। ভারতের মুসলিমরা ভারতেই থাকবে তাদের উপর কোনো অত্যাচার,নিপীড়ন হবে না। তবে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে আগত মুসলিমদের আমরা কিভাবে নাগরিকত্ব দেব? পুরো বিশ্ব থেকে আগত মুসলিমদের কিভাবে নাগরিকত্ব দেব? এভাবে কি দেশ চলতে পারে? অমিত শাহ বলেন, এই বিল শুধুমাত্র একটা বর্গবিশেষ এর জন্য। যারা তিনটি দেশে ধার্মিক কারণে নিপীড়িত হচ্ছেন তাদের সুবিধার জন্য এই বিল আনা হয়েছে।

অমিত শাহ এর পর বিরোধী দলের সদস্যরাও এই বিল নিয়ে তাদের বিবৃতি দেন। এর মধ্যে সমাজবাদী পার্টি নেতা ও রাজ্য সভার সদস্য জাভেদ আলী খান (Javed Ali Khan) যা বলেছেন তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চা হচ্ছে। জাভেদ আলী অভিযোগ তুলেছেন যে মোদী সরকার দেশের সেকুলার ভিতকে উপড়ে ফেলে দিচ্ছে। জাভেদ আলী RSS এর প্রাক্তন সরসঙ্ঘচালক এম. এস. গোলওয়ালকরের লেখা একটা বইযের কিছু অংশ পড়ে শোনান এবং বলেন দেশ এখন কোন দিকে এগোবে বোঝাই যাচ্ছে। জাবেদ আলী বলেন “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে এই বিলের সাথে মুসলিমদের কোনো লেনা দেনা নেই। আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই যে আমরা কি দেশের নাগরিক নয়? সরকার দেশের সেকুলার ভিতকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। আমারা কি দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক?”

Javed Ali Khan

প্রসঙ্গত জানিয়ে দি, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিরোধীরা এখনও কেন্দ্রের মোদী সরকারের উপর আক্রমক মুডে রয়েছে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা খোলাখুলিভাবে বিলের বিরোধিতা করেছে। শিবসেনা বিলের সমর্থন জানিয়েছেন তবে তারাও কেন্দ্রের উপর শরনার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে। শিব সেনার এক নেতা দাবি করেছেন নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও শরনার্থীদের যেন ভোটের অধিকার না দেওয়া হয়। কারণ ভোটের অধিকার দিলে সব ভোট বিজেপি পাবে।

Related Articles

Back to top button