নতুন খবরভারতবর্ষ

ভারতে থাকা জিন্না টাওয়ার নিয়ে জোর বিতর্ক! নাম পাল্টে এপিজে আব্দুল কালামের নামে রাখার দাবি

মসলার জন্য বিখ্যাত অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলায় যেখানে রয়েছে জিন্না টাওয়ার, যা প্রজাতন্ত্র দিবসে আবার বিতর্কে এসেছে। কিছুজন প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জিন্না টাওয়ারে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন যাকে ঘিরে শুরু হয় উত্তেজনা এবং পুলিশ তা নস্যাৎ করে। গুন্তুর জেলার মহাত্মা গান্ধী রোডে রয়েছে জিন্না টাওয়ার। এই টাওয়ারকে নিয়ে রয়েছে দুটি ইতিহাস।

প্রথমটি হল— স্বাধীনতার আগে একবার জিন্নার প্রতিনিধি আলী খান যখন গুন্তুরে আসেন তখন তেলেগু রেশম পার্টির ঠাকুরদা লাল জন বাদসাহ , মহম্মদ আলি জিন্নার সম্মানে জিন্না টাওয়ার প্রতিষ্টা করার কথা ঘোষণা করেন। যদিও এই মত নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কারণ জিন্না নিজে কখনো এইখানে আসেননি শুধু তার প্রতিনিধি এসেছে বলেছে এই টাওয়ার প্রতিষ্টা হয়েছে তা খুব বিতর্কের।

আরেকটা ইতিহাস হল— দেশবিভাজনের পর ওই পৌরসভার চেয়ারম্যান ঠিক করেছেন যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি ও ঐক্যের এক প্রতীক থাকা উচিত তাই প্রতীক স্বরূপ সম্পূর্ণ ইসলামী রীতিতে তিনি জিন্না টাওয়ার প্রতিষ্টা করেন। কিন্তু প্রতি বছর জিন্না টাওয়ারকে নিয়ে এক বিতর্কের সৃষ্টি হয় কারণ প্রতিবছর একদল লোক আসেন এইখানে পতাকা উত্তোলন করতে। যদিও প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দেশের সর্বত্র পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু যারা বিনা অনুমতিতে আসেন তাদের আটকানো হয়।

এখনকার মেয়র ঠিক করেন যাতে এইখানে সঠিকভাবে বেষ্টন করে রাখা হয় এবং পতাকা উত্তোলন করতে যে দলই আসুক না কেন তাদের কেনো আটকানো হয়। এরপর এইখানে হিন্দু বাহিনী নামে এক দল আসে তাদের সাথে পুলিশের বিবাদ হয়। কিছু লোককেও আটক করা হয়। এছাড়াও কিছু রাজনৈতিক দল যেমন বিজেপি দীর্ঘ সময় ধরে দাবী করেছে— হয় এই টাওয়ারের নাম পরিবর্তন করে এপিজে আবদুল কালামের নামে রাখা হক।

দাবি গুন্তুরে জিন্নার নামে টাওয়ার রাখার কোনো মানেই হয় না। দেশভাগের অন্যতম কারণ হচ্ছেনন তিনি।জিন্নার কারণেই অনেক লোক প্রাণ হারায় এবং দেশের অনেক অঞ্চলের ক্ষতি হয়। যদি জিন্নার এইখানে বাড়ি থাকতো বা জীবনের অনেকটা সময় এইখানে অতিবাহিত হলে তাও এই নাম যুক্তিপূর্ণ হতো, কিন্তু সেটাও নয়। তাই হয় এপিজে আবদুল কালামের নামে রাখা হক নাহলে বিখ্যাত দলিত নেতা গুররাম জাসুয়ার নামে নামাঙ্কিত করা হোক বলে দাবি অনেকের।

নাহলে কিছু দল এইটাও দাবী করেছে যে এই টাওয়ারটিকে ভেঙে দেওয়া হোক। তাই এই টাওয়ার দীর্ঘ সময় ধরে এক বির্তকে জড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যে 2017 সালে পাকিস্তানের সরকার এই টাওয়ার রক্ষায় এগিয়ে আসে। পাকিস্তান সরকার বলে যে জিন্না টাওয়ার হচ্ছে ঐক্য ও শান্তির প্রতীক যেটা পাকিস্থানের পিতা মহম্মদ আলি জিন্নার নামে নামাঙ্কিত। যদিও অপরদিকে এটাও লক্ষণীয় যে পাকিস্থানের তরফ থেকে এই শান্তি ও সংহতি দেখা যায় না। পাকিস্থানে কোথাও গান্ধীজি, জহরলাল নেহেরুর মূর্তি জনবসতি এলাকায় দেখা যায় না, সব মূর্তি হয় ভারতীয় দূতাবাসে আছে।

খোলা স্থানে কোথাও নেয় যেখানে জন সাধারণ দেখতে পাবে। সম্প্রতি এইটাও দেখা গেছে মহারাজা রঞ্জিত সিং যার অনেক পুরনো ইতিহাস আছে পাকিস্থানের সাথে তার মূর্তি সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি গান্ধীজি ও নেহেরুর নামে যত পুরোনো নাম ছিল সব বদলে ফেলা হয়েছে।পাকিস্তান এতটাই অসহনশীল যে সম্প্রতি ম্যানচেস্টারে যখন গান্ধীজির মূর্তি লাগানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তখন অনেক পাকিস্তানি ছাত্র-ছাত্রী তার বিরোধিতা করে। তাদের মতে গান্ধীজি বর্ণ বিদ্বেষী ছিলেন। যদিও পরে ম্যানচেস্টারে শেষ পর্যন্ত মূর্তিটি উন্মোচন করা হয়। ভারতের প্রতি যে বিদ্বেষ তা শুধু পাকিস্তানের সরকারেই নয় সাধারণ মানুষের মনেও যেনো শিকড়ের মত বিঁধে আছে। তাহলে কি শান্তি, সংহতি ও ঐক্যর দায়িত্ব কি শুধু ভারতের প্রশ্ন এখানেই।

Related Articles

Back to top button