ইতিহাসধর্মনতুন খবর

আওরঙ্গজেব ভেঙেছিল কাশী বিশ্বনাথ মন্দির! স্কন্দ পুরান, ঋকবেদেও পাওয়া যায় এই স্থানের ইতিহাস

অযোধ্যা বিতর্কের সমাধানের পর এবার ওই একই মডেলে কাশী মথুরার সমাধানের দাবি উঠতে শুরু হয়েছে। কাশিতেকাশী জ্ঞানব্যাপী মসজিদ রয়েছে এবং কাশি বিশ্বনাথ মন্দির রয়েছে। কাশিকাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের মূল অংশ ভেঙে মসজিদ বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওরংজেব আদেশ জারি করে কাশি বিশ্বনাথ মন্দির ভাঙচুর করিয়েছিল। সেই অদেশপত্র কলকাতা এশিয়াটিক লাইব্রেরীতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

হিন্দুদের পবিত্র সপ্তপুরীর মধ্যে কাশী নগরীকে ধরা হয়। স্কন্দপুরান, মহাভারত, রামায়ণ, ঋকবেদ সহ নানা প্রাচীন গ্রন্থে এই নগরীর দারুনভাবে মহিমামন্ডন করা রয়েছে। বিশ্বের প্রাচীনতম নগরের মধ্যে এই নগরীকে ধরা হয়। আমেরিকান লেখক মার্ক টুইন কাশির প্রতি সন্মান জ্ঞাপন করে লিখেছেন, হিন্দুদের কাশি ইতিহাসের থেকেও প্রাচীন এবং বিশ্বের সমস্ত সভ্যতার থেকেও প্রাচীন। পৌরাণিক গাঁথা অনুযায়ী, ভগবান শিব কাশী নগর স্থাপিত করেছিলেন। এবং উনি জোতিরলিঙ্গ হিসেবে প্রকট হয়েছিলেন।

হিন্দুদের ধারণা জীবনের অন্যতম লক্ষ হল মোক্ষ লাভ। আর এই মোক্ষলাভের সাথে এই নগরী ও নগরের হৃদয়স্থান বিশ্বনাথ মন্দিরের সম্পর্ক জুড়ে রয়েছে। ১৬৬৯ সালে ওরংজেব এই মন্দিরে আক্রমন করে ভাঙচুর চালায় এবং মূল মন্দিরের স্থানে মসজিদ বানিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠে। অরঙ্গজেব ভারত থেকে সনাতন ধর্মকে বিলুপ্ত করার যে চেষ্টা চালিয়েছিল তারই একটা অংশ হিসেবে হিন্দুদের এই বিশেষ পবিত্র মন্দিরে আক্রমন চালিয়েছিল।

মন্দির ভাঙার বহু বছর পর আবার হিন্দুরা মূল মন্দিরের পাশের স্থানে বিশ্বনাথ মন্দিরের নির্মাণ করে এবং সেখানে জোতিরলিঙ্গের পুজা হয়। নতুন মন্দিরের জমিকেও হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। ১৯৩৬ সালে ওয়াক বোর্ড নতুন মন্দিরের এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করেছিল। যদিও সেই দাবি মিথ্যা প্রমানিত হয়।

তবে এখন কাশি ও মথুরা দুই ইস্যুতেই নতুন করে সমাধানের জন্য আওয়াজ উঠছে। মথুরার আদালতে একটি সিভিল মামলা দায়ের শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান ভূমি মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে। ওই আবেদনে ১৩.৩৭ একর কৃষ্ণ জন্মভূমির মালিকানা চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান জানিয়েছে যে, শ্রী কৃষ্ণের জন্মভূমিতে মুঘল আমলে দখল করে শাহি দরগাহ বানানো হয়েছিল। একইসাথে আবেদনে শাহি ইদগাহ মসজিদকে হটানোর দাবি জানানো হয়েছে।

Back to top button
Close