ইতিহাসভারতীয় সংস্কৃতি

হর হর মহাদেব শ্লোগান দিয়ে মুঘলদের কচু কাটা করেছিল লাচিত বরফুকানের সেনা! আজকেই পালন করা হয় ‘বীর লাচিত দিবস।’

ভারতের যেকোনো ছাত্ৰদের মুঘলদের ইতিহাস জিজ্ঞাসা করলে গড় গড় করে তা বলে দেবে। বাবর। থেকে শুরু করে আকবর ও তাদের চোদ্দপুরুষের নাম সকলে জানে। কিন্তু চন্দ্রগুপ্ত, অশোক, রাজা প্রতাপাদিত্য, অজিত সিং ইত্যাদি মহান রাজাদের সম্পর্কে খুব কম মানুষ জানেন। এমনকি ভারতের ছাত্ররা এটা পর্যন্ত জানে না যে কিভাবে ভারতীয় রাজারা মুঘলদের তাড়িয়ে ছিল। এমনি এক মহান হিন্দু যোদ্ধা ছিলেন লাচিত বরফুকান (Lachit Borphukan)। যার ইতিহাস বইতে পড়ানো হয় না, তবে লাচিত বরফুকানের ইতিহাস, যুদ্ধ কৌশল ভারতীয় সেনাদের জানানো হয় ও শেখানো হয়। ভারতয় সেনা ছাড়াও অন্য কিছু দেশেও লাচিত বরফুকানের ইতিহাস পড়ানো হয় শুধুমাত্র তার যুদ্ধ কৌশল শেখানোর জন্য।

Lachit Borphukan

 

লাচিত বরফুকান ছিলেন অসমের অহোম হিন্দু সাম্রাজ্যের সেনাপতি, যে অহোম সাম্রাজ্য ১৭ বার মুঘলদের হারিয়েছিল। ২৪ শে নভেম্বর ১৬২২ সালে আজকের দিনেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন লাচিত বরফুকান। সাল ১৬৭১ এ মুঘল সেনা অহম সাম্রাজ্যের উপর আক্রমন করেছিল এবং সেই সময় সম্রাজ্যের রক্ষার দায়িত্ব ছিল লাচিত বরফুকানের হাতে। এই যুদ্ধের কাহিনী আসল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে, দালাল ইতিহাসবিদের লেখা ইতিহাস বইতে নেই।

Lachit Borphukan

১৬৭১ সালে অহোম হিন্দু সাম্রাজ্য ও মুঘলদের মধ্যে হওয়া ভীষণ যুদ্ধ সরাইঘাটের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। একদিকে ছিল মুঘলদের বিশাল নৌ বাহিনী, স্থল বাহিনী অন্যদিকে ছিল অহোম সাম্রাজ্যের ছোট আকারের সেনা। এই ভীষণ যুদ্ধে কট্টর জিহাদি ওরংজেবের মামা শায়েস্তা খানও মুঘলদের একাংশকে নেতৃত্ব দিত। মুঘলদের সেনা দেখে লাচিত বরফুকানের সেনা পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। এর পর নিজের সেনার মনোবল বৃদ্ধি করতে সেনাকে উদেশ্য করে বড়ো বক্তৃতা রাখেন লাচিত বরফুকান।

লাচিত বরফুকান তার সেনাকে বুঝিয়ে বলেন যে, যুদ্ধে হারের অর্থ মা, বোনের সম্মান হরণ হওয়া। কারণ মুঘলরা হিন্দু নারীদের সম্মান লুটতে দ্বিধা বোধ করতো না। লাচিত বরফুকানের ভাষণ শোনার পর অহোম সাম্রাজ্যের ছোটো সেনা যেন জ্বালামুখিতে পরিণত হয়। মুখে হর হর মহাদেব শ্লোগান দিয়ে মাতৃভূমির রক্ষা করতে নেমে পড়ে হিন্দু সেনা। লাচিত বরফুকান সেনাদের মধ্যে এমন জোশ ঢুকিয়ে দেন যে মুঘলদের সামনে ঝুঁকতে অস্বীকার করে তারা। এক এক জন সেনা ১০০ জন মুঘলদের টক্কর দিতে শুরু করে। ওই যুদ্ধের তেজ, বীরত্ব ও ত্যাগের কথা লিখলে পুরো একটা বই লেখা সম্ভব।

লাচিত বরফুকন

বীর হিন্দুদের তান্ডবের দরুন গাজর,মুলোর মতো কাটা পড়ে মুঘল সেনা। অহোম হিন্দু সাম্রাজ্যের মাত্র ৪০০০ সেনা মুঘলদের বিশাল সেনার উপর ধ্বংসলীলা চালায়। চারিদিকে থেকে শোনা যায় হর হর মহাদেব, জয় ভবানী, জয় বজরং বলির শ্লোগান। যুদ্ধে দারুণভাবে পরাজিত হয়ে শেষমেষ পলায়ন করে মুঘলরা। আজ সেই বীর হিন্দু যোদ্ধা লাচিত বরফুকানকে স্মরণ করে পালন হয় বীর লাচিত দিবস। অবশ্য যারা তাদের মহাপুরুষদের কথা ভুলে গিয়ে ভ্যালেন্টাইন দিসব, রোজ দিবস পালন করতে ব্যাস্ত তাদের কাছে বীর লাচিত দিবস একটা গল্প মাত্র। অন্যদিকে ভারতীয় সেনা ও সচেতন নাগরিকদের কাছে এদিন এক গৌরবের দিন, এক অনুপ্রেরণার দিন।

Related Articles

Back to top button