Press "Enter" to skip to content

৭১-এ পাকিস্তানের সাথে লড়াই করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জওয়ানের জীবিত থাকার খবর পাওয়া গেল ৪৯ বছর পর

শেয়ার করুন -

নয়া দিল্লীঃ জলন্ধরের দাতার নগরের ৭৫ বছর বয়সী সত্যা দেবীর কাহিনী সাধারণ মহিলাদের জন্য একটি উদাহরণ। ওনার স্বামী মঙ্গল সিংহ ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যু’দ্ধে’ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। আর এরপর পাকিস্তানি সেনা ওনাকে বন্দি বানিয়ে নেয়। সেই সময় ল্যান্স নায়েক মঙ্গল সিংহয়ের বয়স মাত্র ২৭ বছর ছিল। সত্যা দেবী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। তখন থেকেই সত্যা দেবী স্বামীর অপেক্ষায় কয়েক দশক কাটিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু বিদেশ মন্ত্রী দ্বারা পাওয়া এক চিঠি ওনার আশা বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সত্যা দেবীর স্বামী মঙ্গল সিংহ ১৯৬২ সাল নাগাদ ভারতীয় সেনা ভর্তি হন। ১৯৭১ সালে ল্যান্স নায়েক মঙ্গল সিংহকে রাঁচি থেকে কলকাতায় ট্র্যান্সফার করা হয় আর বাংলাদেশে ওনাকে মোতায়েন করা হয়। এর কিছুদিন পর সেনার থেকে টেলিগ্রাম আসে যে, জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া একটি নৌকা ডুবে যায়, আর এই নৌকাডুবিতে ল্যান্স নায়েক মঙ্গল সিংহ সমেত সমস্ত জওয়ানরা প্রাণ হারান।

এরপর থেকেই সত্যা দেবী নিজের স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য আশায় দিন গুনতে থাকেন। সত্যা দেবী সন্তানদের লালন পালনের সাথে সাথে স্বামীর ফিরে আসার আশাও ছাড়েন নি। ভারত সরকারকে অনেক চিঠি পাঠানোর পর অনেক বছর পর অনের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ হয়। এবার ৪৯ বছর পর গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি এবং বিদেশ মন্ত্রালয়ের কার্যালয়ের তরফ থেকে চিঠি পাঠিয়ে সত্যা দেবীকে ওনার স্বামীর বেঁচে থাকার খবর দেওয়া হয়।

বিদেশ মন্ত্রালয় জানায় যে, ল্যান্স নায়েক মঙ্গল সিংহ পাকিস্তানের কোট লখপত জেলে বন্দি অবস্থায় আছেন। পাকিস্তান সরকারের সাথে কথা বলা ওনাকে ছাড়িয়ে আনার অভিযান চালানো হচ্ছে। সত্যা দেবী আর ওনার দুই ছেলে বিগত ৪৯ বছর ধরে মঙ্গল সিংহের অপেক্ষায় আছেন, আর এবার ওনাদের আশা পূর্ণ হতে চলেছে। ওনাকে তাড়াতাড়ি ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন সত্যা দেবী।

বিদেশ মন্ত্রালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সত্যা দেবী জানান, এবার আশা করা যাচ্ছে যে পাকিস্তানের জেলে বন্দি ওনার স্বামী খুব শীঘ্রই ভারতে ফিরে আসবেন। উনি বলেন, সন্তানদের লালন পালনে অনেক সং’ঘ’র্ষ করতে হয়েছে আমাকে, কিন্তু আমি কখনো হার মানিনি। এবার আশা করছি যে, আমার স্বামী খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন।