নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

এরকম দাঙ্গাবাজ, গুন্ডা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জীবনে দেখিনি! অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

মন্তেশ্বরঃ রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার দিন থেকে নির্বাচন কমিশনকে দুষে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে আট দফায় নির্বাচন করানো নিয়ে তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছিলেন। এরপর রাজ্যে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর তিনি কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দোষারোপ করতে ছাড়েন নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি পক্ষপাতিত্বর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে।

ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শোকজ করেছে কমিশন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এখনও নিজের মন্তব্যে অনড়। তিনি আজও বলেছেন, যতদিন CRPF বিজেপির হয়ে কাজ করবে। ততদিন আমিও প্রশ্ন তুলে যাব। ১টা কেন ১০টা শোকজ করলেও আমি বদলাবো না। উল্লেখ্য, কোচবিহারের একটি সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন যে, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী গণ্ডগোল করলে গ্রামের মহিলারা তাঁদের ঘিরে ফেলুন। এরপর একদল ভোট দিতে যান।” ওনার এই মন্তব্যের জেরেই ওনাকে শোকজ করা হয়েছিল।

আর শোকেজের পর একটু হলেও সুর বদল হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী আর কমিশনকে না দুষে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দুষলেন। শুক্রবার বর্ধমানের মন্তেশ্বরের একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইলেকশনের সময় ৫০০ টাকার ক্যাশ আর পুলিশের ধমকানি চমকানি। আর সব পুলিশ না, কাউকে কাউকে আবার পুলিশ সাজিয়েও নিয়ে আশা হচ্ছে। বাইরের গুণ্ডাদের থেকে।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো সেন্ট্রাল পুলিশ, স্টেট পুলিশ সবাইকেই রেসপেক্ট করি। আমার কাছে কোনও ডিফারেন্স নেই। কিন্তু অমিত শাহকে আমি সাপোর্ট করিনা। অমিত শাহ পুলিশকে বাজে কাজ করতে শেখায়। এটা ইলেকশন কমিশন নয়, অমিত শাহ করছে। ইলেকশন কমিশনের আন্ডারে বলছে কাজ করছে সিআরপিএফ। সব অমিত শাহ করছে। অমিত শাহের অফিস থেকে সমস্ত নির্দেশ আসছে। এত বাজে হোম মিনিস্টার, এত গুন্ডা হোম মিনিস্টার, এত দাঙ্গাবাজ হোম মিনিস্টার আমরা জীবনেও দেখিনি।”

বলে রাখি, অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের জবাবও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ত জানেন না যে, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী, CRPF স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হাতে থাকেনা। সবকিছুই নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে। আর মুখ্যমন্ত্রী হতাশা থেকেই এই মন্তব্য করছেন।

Related Articles

Back to top button