নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

বিধায়ক পদ থেকে সরতে পারেন মুকুল রায়, তুমুল চর্চা তৃণমূলের অন্দরেই

কলকাতাঃ একসময় ছিলেন তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) ‘নাম্বার টু”। এরপর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজির অভিযোগ করতে দেখা যায় রায়সাহেবকে। এমনকি রাজ্যে শিল্পের সবথেকে বড় কাঁটা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটাও বলতে শোনা যায় ওনাকে। যাইহোক, সেসব এখন অতীত। একুশের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপিতে মোহভঙ্গ হয় মুকুল রায়ের। এরপরই তিনি সমস্ত কিছু ভুলিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওনাকে কাছে টেনে নেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, কেউ যদি একবার দিদির উপকার করেন, দিদি সেই উপকারের কথা কোনওদিনও ভোলেন না। একসময় মমতার তীব্র বিরোধী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে রাজ্যের মন্ত্রী করে সম্মান দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর প্রধান কারণ হল, ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম সংসদে পৌঁছে দিতে সুব্রতবাবুর ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুকুল রায়কেও এবার তেমনই একটি বড়সড় পদ দিয়ে সম্মানিত করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

উল্লেখ্য, মুকুলবাবু ঠিক কতদিন আর পিএসি চেয়ারম্যান এবং কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক হয়ে থাকতে পারবেন, সেটার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ বিজেপি ওনার পিছনে উঠেপড়ে লেগেছে। আর সেই কারণেই আগেভাগেই মুকুলকে বড় দায়িত্ব দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। ওনাকে বিধানসভায় আটকে রাখার বদলে, রাজ্যসভায় পাঠাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমানে বাংলা থেকে দুটি রাজ্যসভার আসন ফাঁকা রয়েছে। একটি হল দীনেশ ত্রিবেদীর ছেড়ে যাওয়া আসন। আরেকটি হল, মানস ভুঁইয়ার আসন। মানসবাবু একুশের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। দীনেশ ত্রিবেদীর ছেড়ে যাওয়া আসনে ৯ আগস্ট উপনির্বাচন হতে চলেছে। কানাঘুষো চলছে যে, ওই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাকে দাঁড় করানো হতে পারে।

আরেকদিকে, আরেকটি রাজ্যসভার আসন বাকি থাকবে। ওই আসনে মুকুল রায়কে দাঁড় করানোর কথা ভাবছে তৃণমূল। জানা যাচ্ছে যে মুকুল রায়, যশবন্ত সিনহা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে তৃণমূলকে সর্বভারতীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই কারণেই মুকুলবাবুকে বাংলা থেকে সরাসরি দিল্লী পাঠানো হচ্ছে। তবে, আমাদের এই সমীকরণ দেখার জন্য হয়ত আরও কিছুদিনের অপেক্ষা করতে হবে।

Related Articles

Back to top button