নতুন খবরভারতীয় সেনা

বড়ো সফলতা পেল DRDO, ভারতীয় সেনার হাতে এল গেম চেঞ্জার গ্রেনেড

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে বেসরকারি সংস্থা-ইকোনমিক এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড (EEL) দ্বারা তৈরি মাল্টি-মোড হ্যান্ড গ্রেনেড (MMHG) এর প্রথম ব্যাচ হস্তান্তর করেছেন। ভারতীয় সেনার কাছে যে গ্রেনেড ছিল তা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আমলের প্রযুক্তির। যে কারণে জওয়ানদের সাথে প্রায়শই দুর্ঘটনার খবর সামনে আসতো। তবে এখন DRDO ও এক প্রাইভেট কোম্পানি মিলে যে গ্রেনেড তৈরি করেছে তাতে দুর্ঘটনার সম্ভবনা একেবারে কম। জানিয়ে দি, আতঙ্কবাদীদের সাথে লড়াই হোক বা যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াই সব ক্ষেত্রেই গ্রেনেডের ব্যাবহার ব্যাপক।

সম্ভবত সেই কারণে ডিফেন্স বিশেষজ্ঞরা DRDO এই আবিষ্কারকে গেম চেঞ্জার বলে আখ্যা দিয়েছেন। DRDO এর নেতৃত্বে যে গ্রেনেড তৈরি করা হয়েছে তার দুটি ভার্শন তৈরি করা হয়েছে। এক, ডিফেন্স মোড গ্রেনেড, দ্বিতীয় অফেন্স মোড গ্রেনেড। দুই ধরনের গ্রেনেডের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আর্মি ব্যাবহার করতে পারবে।

মঙ্গলবার নাগপুরে একটি অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে একটি বেসরকারি সংস্থা দ্বারা নির্মিত মাল্টি-মোড হ্যান্ড গ্রেনেড (এমএমএইচজি) এর প্রথম ব্যাচ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ।

গ্রেনেডগুলি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভিনটেজ ডিজাইনের ৩৬ নম্বর গ্রেনেডকে প্রতিস্থাপন করবে, যা আজ অবধি সার্ভিসে চালু রয়েছে। এমএমএইচজিগুলি শুধুমাত্র প্রাণঘাতী নয়, এর ব্যবহার অনেক নিরাপদ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) টার্মিনাল ব্যালিস্টিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পর এই হ্যান্ড গ্রেনেডগুলি ইকোনমিক এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড (ইইএল) তৈরি করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটির স্বতন্ত্র নকশা রয়েছে যা প্রতিরক্ষামূলক (বিভাজন) এবং আক্রমণাত্মক (স্তব্ধ) উভয় মোডে কর্মসংস্থানের নমনীয়তা দেয়। এটি ব্যবহারে উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপদ‌ও।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য ১০ লাখ আধুনিক হ্যান্ড গ্রেনেড সরবরাহের জন্য গত বছরের ১ অক্টোবর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে ইইএল চুক্তি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাল্ক উৎপাদন ছাড়পত্র থেকে দুই বছরের মধ্যে ডেলিভারি আরও বাড়ানো হবে, যার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে‌। রাজনাথ সিং বলেছেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

নাগপুরের ওই অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে, ডিআরডিও প্রধান জি সত্যেশ রেড্ডি এবং ডিজি পদাতিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে সামান্ত উপস্থিত ছিলেন।প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোভিড -১৯ মহামারীর মধ্যেও দ্রুত অর্ডার ডেলিভারির জন্য DRDO এবং EEL এর প্রশংসা করেছেন।

দেশীয় প্রতিরক্ষা পণ্য শিল্পের প্রশংসা করে রাজনাথ সিং বলেন, এই ধরনের পণ্য শুধু উৎপাদিত হচ্ছেই না, বড় আকারে রপ্তানি‌ও হচ্ছে। ২০১৬-১৯ সালে অনলাইন রপ্তানি অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ১,২১০। গত দুই বছরে তা বেড়ে ১৭৪৪ হয়েছে। এর ফলে গত দুই বছরে ১৭০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি হয়েছে।

Related Articles

Back to top button