আন্তর্জাতিকনতুন খবর

প্রধানমন্ত্রী মোদীর মাস্টারস্ট্রোক: ভারতীয় ফার্মা কোম্পানির জন্য খুলে গেল আমেরিকার মার্কেট, আসবে বিদেশী মুদ্রা

বলা হয়, সময় সবচেয়ে শক্তিশালী। সবার সময় এক না একদিন আসে। সময় এতটাই শক্তিশালী যে শীর্ষে বসে থাকা ব্যক্তিটিও নীচে পড়ে যেতে পারে এবং নীচ থেকে ব্যক্তিটি শীর্ষে পৌঁছে যেতে পারে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং এফডিএ, যারা এক সময় ভারতের ফার্মা সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করেছিল, আজকে তাদেরই ভারতের ফার্মা সংস্থাগুলির কাছ থেকে ওষুধের দাবি করতে দেখা যাচ্ছে। আজকের সময় করোনা ভাইরাস চীন ও ইউরোপের পরে যদি কোনো দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে তবে সেটি হলো আমেরিকা। এখনো অব্দি করোনা প্রতিরোধের জন্য সেরম কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ তো তৈরি হয়নি, তবে করোনার রোগীদের পরিদর্শনকারী ডাক্তার এবং মেডিক্যাল স্টাফদের হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine) ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ড্রাগটিকে গেম চেঞ্জার হিসাবে অভিহিত করছেন। এবং ভারত এই ওষুধের বৃহত্তম রপ্তানিকারী দেশ।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারত থেকে এই ওষুধ আনতে ফোন করে কথা বলতে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি এরকম যে FDA দ্বারা যেই ফার্মা সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সেই সংস্থাগুলির উপর থেকে নিষিদ্ধতা সরিয়ে ফেলতে হয়েছে আমেরিকাকে। বলা হচ্ছে যে, প্রায় ছয় বছর নিষেধাজ্ঞার পরে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) করোনভাইরাস সংক্রমণের জন্য ক্লোরোকুইন ট্যাবলেট সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের Ipca Laboratories এর দুটি ইউনিটের আমদানির সতর্কতাগুলি সরিয়ে নিয়েছে যাতে কোরোনা ভাইরাস সংক্রামণের জন্য হাইড্রোক্স ক্লোরোকুইন এর আমদানি সুনিশ্চিত করা যেতে পারে। জানিয়ে দি যে ইউএস FDA জুলাই ২০১৪ সালে মধ্য প্রদেশের রতলামের এক প্ল্যান্টকে নিষিদ্ধ করেছিল, যেখানে হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইনের সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানগুলি অর্থাৎ API উৎপাদন করা হয়।

শুধু তাই নয়, মার্কিন FDA মধ্য প্রদেশের পিঠামপুরে অবস্থিত উৎপাদন ইউনিট এবং ইন্দোরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত গুজরাটের সিলভাসায় হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন সালফেট ট্যাবলেট আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

জানিয়ে দি যে FDA বহু ভারতীয় সংস্থাকে আমেরিকা থেকে নিষিদ্ধ করেছে। এর অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে, তবে মূল কারণ হল এই সংস্থাগুলি বিশ্বের ফার্মাস খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং এর কারণে লোকেরা কম দামে ওষুধ পেতে শুরু করেছে। রানব্যাক্সি থেকে শুরু করে সান ফার্মার মতো সংস্থাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ, যার কারণে তারা মার্কিন বাজারে তাদের ওষুধ বিক্রি করতে অক্ষম। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর FDA ভারতে ফার্মা সংস্থাগুলিকে ২৩টি সতর্কতা চিঠি দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ভারতের চেয়ে ব্যয়বহুল। তবে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা ওষুধের জন্য জোর দিয়েছিলেন। ভারত জেনেরিক ওষুধের বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ, ২০১৮ সালে FDA দ্বারা অনুমোদিত সমস্ত নতুন জেনেরিক ড্রাগের প্রায় ৪০ শতাংশ।এখন যখন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তখন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নিজেই ভারত থেকে ওষুধ রফতানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ফোন করে অনুরোধ করতে হয়েছে।

ভারত হাইড্রোক্সিল ক্লোরোকুইন এর বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক, যা ২০১৯ অর্থবছরে ৫১মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে। এটি দেশ থেকে 19 বিলিয়ন ডলারের ফার্মা রফতানির একটি ছোট অংশ। ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যালায়েন্সের (আইপীএ) সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন জৈনের মতে, ভারত বিশ্বের হাইড্রোক্স ক্লোরোকুইনের ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে।

তবে, ২০২০ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে রফতানি হ্রাস পেয়ে ৩৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়ে গেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ড্রাগের প্রচার চালানোর কারণে হঠাৎ করে এই সস্তা ওষুধের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বেড়েছে। ব্রাজিল এবং সার্ক দেশগুলি ভারতের কাছে ওষুধের দাবি করেছে। এটি আরও জানা দরকার যে কেন্দ্র ইতোমধ্যে IPCA ল্যাবরেটরিজ এবং ক্যাডিলা স্বাস্থ্যসেবা থেকে ১০০ মিলিয়ন ট্যাবলেট অর্ডার করেছিল। নির্মাতারা দাবি করেছেন যে ভারতের বাজারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রয়েছে এবং একই সাথে এই ওষুধগুলি রপ্তানির জন্য ভারতের পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড রিপোর্ট অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে সরবরাহ সম্পর্কে চিন্তার দরকার নেই। ভারত প্রয়োজনে প্রতিমাসে প্রায় ১০০ টন ওষুধ তৈরি করতে পারে, কারণ এই ওষুধ তৈরির ক্ষমতা সহজে বাড়ানো যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকাও তার দেশের জন্য ভারত থেকে হাইড্রোক্স ক্লোরোকুইনের কিনেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে করোনোভাইরাস মহামারী মোকাবেলার জন্য আমেরিকা কর্তৃক ক্রয়কৃত 29 মিলিয়ন ডোজ
হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইনের একটি বড় অংশ ভারতে আছে। অর্থাৎ, এখন কঠিন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে হাইড্রোক্স ক্লোরোকুইনের আহ্বান করতে এত প্রস্তুত যে তিনি IPCA-র উপর লাগা সতর্কতাগুলিও সরিয়ে দিয়েছে। ভারতও সহায়তা করে মানবতার পরিচয় তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে, পুরো বিশ্ব এই ওষুধের জন্য এখন ভারতের দিকে চেয়ে আছে।

Back to top button
Close