নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

নন্দীগ্রামের একটি বুথে ভোটারের থেকে ১২৩ টা বেশি ভোট? বঙ্গে শুরু নতুন রাজনৈতিক তরজা

কলকাতাঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকে পাখির চোখ ছিল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। দুই হেভিওয়েটের মধ্যে টক্কর চলছিল সামনাসামনি। লড়াইটা ছিল তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বনাম বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মধ্যে। নির্বাচনের ফল প্রকাশে জানা যায়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলার মসনদে আবারও তৃণমূল ফিরলেও, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রথমদিকে অবশ্য বলা হয়েছিল, ১২০০ ভোটে জিতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পরবর্তীতে সন্ধ্যের দিকে রিটার্নিং অফিসার ঘোষণা করেন, জয় হয়েছে শুভেন্দু অধিরকারির। কিন্তু নির্বাচনের এই ফল মেনে নিতে পারেনি তৃণমূল শিবির। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ‘সমগ্র রাজ্যের থেকে আলাদা ফল হয়েছে নন্দীগ্রামে। এটা কখনই হতে পারে না, আদালতে যাব আমি। খবর আছে, ফল ঘোষণার পর কারচুপি হয়েছে। আর সেটা ঠিকই খুঁজে বের করব’।

সেই থেকেই নন্দীগ্রামের নির্বাচনের ফল নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। এরই মধ্যে এবিষয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল, যা নিয়ে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার এস এন রায় স্কুলের বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬৭৬। কিন্তু ‘অ্যাকাউন্ট অব ভোটস রেকর্ডেড’ স্পষ্ট লেখা রয়েছে ভোট পড়েছে ৭৯৯। যা আবারও নন্দীগ্রামের ভোটগণনায় গরমিলের অভিযোগকে স্পষ্ট করছে। তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সবকিছু দেখে শুনেও প্রিসাইডিং অফিসার কিভবে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন ফর্ম ১৭ সি-তে? তাঁর চোখে কি কিছুই পড়েনি?

এঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান জানান, ‘ওই দিন সার্ভার না থাকার কারণে শেষের ৩ ঘণ্টা গণনা বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও ১ ঘন্টা দেরী হয়। তারউপর ভিভিপ্যাট গোনার সময় বিরোধীদলের চাপে সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হয়’।

তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya) এবিষয়ে বলেন, ‘একটা বুথেই প্রায় ৮০ টা ভোটের গরমিল? তাহলেই ভাবুন, বাকিগুলোতে কি হয়েছে? প্রথম থেকেই আমরা বলে আসছি কিছু একটা জলঘোলা হয়েছে নন্দীগ্রামে’।

অন্যদিকে তৃণমূলের দিক থেকে করা সমস্ত অভিযোগ উড়িতে দিয়ে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘গত পঞ্চায়েত ভোটেও এরকম অনেক জায়গায় হয়েছে। তবে তৃণমূলের করা অভিযোগের সত্যতা বিচার আমরা করতে পারব না। তার জন্য আদালত ও নির্বাচন কমিশন রয়েছে। আগে তৃণমূল বামেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, আর এখন আমরা ১০ বছর ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছি’।

Related Articles

Back to top button