আন্তর্জাতিকনতুন খবর

না খেতে পেয়ে হাহাকার করছে চীনের ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ, ৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ঘরে

নয়া দিল্লিঃ চীনের জিয়ান শহরে করোনা ভাইরাস লকডাউনের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। অনেকে বলেছেন যে লকডাউনে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতার কারণে তাদের খাওয়ার মতো খাবার নেই। একই সঙ্গে চীনা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বলে দিই, এই শহরে গত নয় দিন ধরে এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরে বন্দি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরোপিত লকডাউনের তুলনায় চীনারা খাবার কেনার জন্যও বাইরে যেতে পারছে না। সরকার দাবি করছে যে খাবারের সরবরাহ আগের মতোই আছে, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলছেন যে তারা এখনও খাদ্য সামগ্রী পাননি। অনেকে অনাহারের মতো পরিস্থিতির কথা বলেছেন।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পর সম্প্রতি জিয়ানে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বছরের শেষ দিনে আবারও চীনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তবুও এই সংখ্যা ভারত ও অন্যান্য দেশে দৈনিক করোনা আক্রান্তের এক শতাংশও নয়। সংক্রমণের প্রকৃত পরিসংখ্যান লুকানোর জন্য চীন এমনিতেই কুখ্যাত। এমন পরিস্থিতিতে জিয়ানে কেউই প্রকৃত করোনা মামলা ঘুণাক্ষরেও টের পাচ্ছে না। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ওমিক্রনের মামলার পর চীন আরও কঠোরতা বাড়িয়েছে।

প্রথমের দিকে চীন জিয়ান শহরের প্রতি পরিবারে একজন-কে খাবার এবং অন্যান্য দরকারি জিনিস কিনতে প্রতি দুই দিনে একবার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সোমবার সেই নিয়ম কড়া করা হয়। করোনার পরীক্ষা না করে লোকজনকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন প্রতিবার করোনার পরীক্ষা করিয়ে দৈনন্দিন সামগ্রী আনা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জিয়ানের বাসিন্দাদের জন্য।

লকডাউন চলাকালীন খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পেতে সেখানকার বাসিন্দারা চীনা সোশ্যাল মিডিয়া Weibo-র সাহায্য নিচ্ছে। অনেকে বলেছেন, তাঁরা এখনও কোনও সরকারি সাহায্য পাননি। এক ব্যক্তি পোস্টে লিখেছেন, আমি গত চার দিন ধরে অনলাইনে অর্ডার করা পণ্যের জন্য অপেক্ষা করছি। এমনকি আমাকে আমার কম্পাউন্ড থেকে বের হতেও দেওয়া হচ্ছে না। আমার খাবার ফুরিয়ে গেছে।

অন্য একজন Weibo ব্যবহারকারী লিখেছেন যে, সরকারি সাহায্যের সরবরাহ এতটাই খারাপ যে আমি যে জেলায় আছি, সেখানে কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের একটি জোট করে অর্ডার করতে বলা হয়েছে। দামও অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওও শেয়ার করা হয়েছে, যাতে জিয়ানের একটি অ্যাপার্টমেন্টের কিছু লোককে খাবারের অভাবের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়।

চীনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস বলেছে যে, কিছু জায়গায় আবাসিক কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বারে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত লোক নেই। পুরো শহরে ডেলিভারিম্যানেরও অভাব রয়েছে। অনেক গাড়ির চালক নিজেদের কোয়ারেন্টাইন করেছেন। চীনা কর্মকর্তারা বুধবার স্বীকার করেছেন যে, কম কর্মীদের উপস্থিতি এবং সহায়তা প্রদানে অসুবিধার কারণে শহরটিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে সমস্যা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button