নতুন খবরবিশেষভারতবর্ষ

এক ভারতীয় সাধুর আশীর্বাদে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছিলেন মার্ক জুকারবার্গ ও স্টিভ জবস! নিজের মুখে করেছিলেন স্বীকার

এক বিখ্যাত দার্শনিক বলেছিলেন, “আমেরিকা ও ইউরোপে আধ্যাত্মিক ভাষণ দেওয়ার অর্থ একটা প্রাইমারি স্কুলে পড়ানো। অন্যদিকে ভারতে আধ্যাত্মিক ভাষণ দেওয়ার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবথেকে উঁচু ক্লাসে পড়ানো।” কথাটির তাৎপর্য এই যে, ভারত আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। এই কারণে যে কোনো দেশের আধ্যাত্মিক গুরুকে সেই দেশের পাওয়ার হাউস বলে ধরা হয়। কিন্তু ভারতের আধ্যাত্মিক গুরুদের পুরো বিশ্বের পাওয়ার হাউস বলে গণ্য করা হয়।

যার জন্যেই স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষদের প্রভাব আজকের দিনে দাঁড়িয়েও পুরো বিশ্বকে নতমস্তক করতে বাধ্য করে। ভারত সাধু, সন্ন্যাসীর দেশ যেখানে আধ্যাত্মিক শক্তি সময়ে সময়ে পুরো বিশ্বকে রক্তদান করে। বর্তমান সময়ে এমন অনেক শক্তির উদ্ভব হয়েছে যা ভারতীয় সনাতন সভ্যতা তথা হিন্দু সংস্কৃতির বিনাশের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। যারা সমস্ত সাধুদের ভন্ড ও হিন্দু সংস্কৃতিকে কুসংস্কার বলে তকমা দেয়।

যদিও বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা আজও ভারতের সংস্কৃতির শক্তিকে উপলদ্ধি করেছেন। যার মধ্যে ফেসবুকের মালিক মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg) ও অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস (Steve Jobs) রয়েছেন। এই দুজন ব্যাক্তি ভারতের এক সাধুর শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সনাতন সংস্কৃতির প্রতি নতমস্তক হয়েছে

বলা হয় মার্ক জুকারবার্গ ও স্টিভ জবস তাদের ভাগ্যের চাকা ভারতের সাধু নিম কারোলি বাবার আশীর্বাদেই ঘুরিয়েছিলেন। রিচার্ড এলপর্ড নামক এক আমেরিকান অধ্যাপকের ভারত যাত্রা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে নিম কারোলি বাবা আমেরিকায় বিখ্যাত হয়ে পড়েন। ইউরোপ, আমেরিকায় নিম কারোলি বাবার খ্যাতিনাম তখন আরো ছড়িয়ে পড়ে যখন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস এই সাধুর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন। নিম কারোলি বাবার ভক্তরা দাবি করেন যে, উনি মন্ত্র পড়ে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া, যে কারোর মনের ভাব বলে দেওয়া ইত্যাদি চমৎকার কান্ড করতেন। একবার নিজের আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে আস্ত ট্রেনকে আটকে দেওয়ার ঘটনাও ভারতে খুব প্রসিদ্ধ।

উত্তরাখণ্ডে থাকা নিম কারলি বাবার (Neem Karoli Baba) আশ্রমে আজও লন্ডন,ফ্রান্স, আমেরিকা থেকে বহু সংখ্যায় ভক্ত আসেন এবং সনাতন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। জানিয়ে দি, ফেসবুকের মালিক মার্ক জুকারবার্গ নিজের মুখে নিম কারোলির বাবার শক্তির বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন। যা শুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত অবাক হয়েছিলেন। জুকারবার্গ বলেছিলেন যে, নিম কারোলি বাবার সম্পর্কে তিনি স্টিভ জবসের থেকে জানতে পেরেছিলেন। স্টিভ জবসের পরার্মশ মেনেই তিনি নিম কারোলি বাবার আশ্রমে এসেছিলেন। বলা হয় স্টিভ জবস যতদিন বলেছিলেন নিজের ম্যানি ব্যাগে বাবার ছবি রাখতেন এবং বালিশের নীচে বাবার ছবি রাখতেন।

আমেরিকান অধ্যাপক রিচার্ড এলপর্ড ভারতে এমন একজন ব্যাক্তির খোঁজে এসেছিলেন যার চৈতন্য জাগ্রত রয়েছে। সেই সময় ভারতে ভগবান দাস নামে এক আমেরিকান ব্যাক্তির সাথে দেখা হয় যিনি রিচার্ড এলপর্ডকে নিম কারোলি বাবার কাছে নিয়ে যান। যারপর উনি বাবার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে রাম দাস হয়ে যান। অন্যদিকে ভগবান দাস আগে নিজেও একজন আমেরিকান ছিলেন পরে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে নাম পাল্টেছিলেন। নিম কারোলি বাবা নিজে একজন হনুমান ভক্ত ছিলেন এবং উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে তিনি হনুমান মন্দির নির্মাণও করেছিলেন। সেই আশ্রম আজও আমেরিকার নিউ মেক্সিকো থেকে শুরু করে পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে রয়েছে।

Back to top button
Close