নতুন খবর

দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার পরই লতা মঙ্গেশকরের ইনকামের পেছনে পড়েছিল IT বিভাগ, ৫০ বছর ধরে করা হয়েছিল জ্বালাতন

প্রয়াত ভারতরত্ন পুরষ্কারপ্রাপ্ত বলিউডের বিখ্যাত প্রয়াত গায়িকা লতা মঙ্গেশকর 1963 সালের 26 জানুয়ারি ‘অ্যা মেরে ওয়াতান কে লোগন’ গানটি গেয়েছিলেন, হয়তো এমন কোনো ভারতবাসী নেই যারা এই গানটি শুনেনি। এই গান টি ভারতবাসীর আবেগে জড়িয়ে গেছে। গানটি গাওয়া হয়েছিল 1962 সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পরের বছর। গানটি যুদ্ধে শহীদ হওয়া সৈন্যদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছিল। শহীদ সেনাদের জন্য এই গানে তাদের শ্রদ্ধা জানানো হয় কিন্তু একদিকে যেমন তার এই গান পুরো ভারতবর্ষ ভালোবেসে ফেলে সেই সময় জওহরলাল নেহেরুও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আয়কর বিভাগ কে লতা দিদির বিশাল সম্পত্তির মামলায় ফাঁসানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল।

বম্বে হাইকোর্টের রেকর্ডগুলি যদি দেখা যাই তাহলে দেখা যাবে আইটি বিভাগ লতাজির বিরুদ্ধে মামলাটি আদালতে নিয়ে গিয়েছিল, যা 1947 সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয়েছিল। তবে এটাকে লতাজির ভাগ্য বলা হবে যে সেই সময়ে তিনি ননী পালকিওয়ালার মতো একজন বিখ্যাত আইনজীবীর সমর্থন পেয়েছিলেন, যিনি ভারতের সংবিধান এবং এর নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য পরিচিত। এরপর পিছু হটতে হয় আয়কর বিভাগকে।

হাইকোর্টের নথি গুলি দেখা গেলে পরিষ্কার বোঝা যাবে কিভাবে লতা মঙ্গেশকরকে হেনস্থা করা হয়েছিলো।তাকে আদালতের চক্কর কাটানো হয়েছিলো কিন্তু এইসব উপেক্ষা করে তিনি 1958 সালে গায়ক হিসেবে ,তারপর একজন বিখ্যাত ফিমেল প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে,এবং 1970 সালে স্বীকৃত প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সম্মানিত হয়।

নয়াদিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের কয়েকদিন পর, আইটি বিভাগ 1962 1963 এবং 1964 মূল্যায়ন বছরের জন্য লতার ইনকাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, যার মূল্য যথাক্রমে 143,650 টাকা 138251 টাকা, 119850 টাকার হিসাব তারা দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এই হিসাবটি সাধারণত প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে কাজ করার পরে প্রাপ্ত টাকার হিসাব ছিল। চেন্নাই এ ভাসু ফিল্মস দ্বারা করা কিছু এন্ট্রি একজন আইটি অফিসার খুঁজে পেয়েছিলেন, যার ভিত্তিতে তিনি অনুমান করেছিলেন যে লতা জি তার প্রকৃত আয় গোপন করেছিলেন। কিন্তু পরে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয় আদালতের কাছে।

1991 সালের 30 ডিসেম্বর বোম্বে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে আইটি বিভাগের সাথে প্রয়াত গায়িকার এই মামলাটি 1990 এর দশকের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।আইটি বিভাগ গায়কের বিদেশের কনসার্ট থেকে পাওয়া টাকা কে যুক্ত করে অভিযোগ এনেছিল। কিন্তু হাইকোর্ট পরিষ্কার করে দেয় বিদেশ থেকে পাওয়া টাকার সাথে তার আয়কর সংক্রান্ত মামলার কোনো মিল নেই।

Related Articles

Back to top button