Press "Enter" to skip to content

৩২ বার ফেল করার পর অবশেষে ৫১ বছর বয়সে করোনার দয়ায় মাধ্যমিক পাশ করলেন নূরউদ্দিন

শেয়ার করুন -

হায়দ্রাবাদঃ করোনার (Corona) কারণে ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক আঘাত লেগেছে। লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে পারেনি। আর এর মধ্যে হায়দ্রাবাদের (Hyderabad) এক ব্যাক্তি এই মহামারীর কারণে লাভের মুখ দেখল। লাগাতার ৩৩ বছর দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দেওয়া মোহম্মদ নূরউদ্দিন (Nooruddin) এই বছর পাশ হয়ে গেছেন। উল্লেখ্য, তেলেঙ্গানা সরকার দশম শ্রেণীর সমস্ত পরীক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই নূরউদ্দিনের কপাল খুলে যায়। অবশেষে ৫১ বছর বয়সে নূরউদ্দিন সরকারের সিদ্ধান্তে দশম শ্রেণী পাশ করে গেলেন।

হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা নূরউদ্দিন প্রতিবছর দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দিতেন, কিন্তু প্রতিবারই তিনি ইংরেজিতে ব্যাক পেতেন। এই বছর করোনার কারণে অন্যান্য রাজ্যে আগে আগে দশম শ্রেণীর পরীক্ষা হয়ে গেলেও, তেলেঙ্গানাতে দশম শ্রেণীর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা না নিতে পারার কারণে অবশেষে তেলেঙ্গানা সরকার দশম শ্রেণীর সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পাশ করিয়ে একাদশ শ্রেণীতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই নূরউদ্দিন দশম শ্রেণী থেকে একাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে যান।

রিপোর্টস অনুযায়ী, নূরউদ্দিন প্রথমবার ১৯৮৭ সালে দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। লাগাতার ইংরেজিতে ফেল করার পরেও তিনি এই বছরেও পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য উনি এবছর ৩ হাজার টাকার ফিসও ভরেছিলেন। অবশেষে সরকারের সিদ্ধান্তে পাশ হওয়ার পর নূরউদ্দিন দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় পাশ হয়ে যান আর এরপর তিনি তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওকে ধন্যবাদ জানান।

শুধু তেলাঙ্গানাতেই না, দেশের অনেক রাজ্যে অনেক পরিক্ষাই করোনার কারণে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে দশম শ্রেণীর পরীক্ষা সম্পূর্ণ হলেও দ্বাদশ শ্রেণীর তিনটি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছিল না করোনার কারণে। আর ওই তিনটি পরীক্ষায় অনুপাত অনুযায়ী নম্বর দিয়ে ফল প্রকাশ করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।