Press "Enter" to skip to content

চায়ের দোকান চালিয়ে বস্তির শিশুদের উচ্চ শিক্ষা দিতেন পদ্মশ্রী প্রকাশ রাও, হৃদরোগ কেড়ে নিল প্রাণ

শেয়ার করুন -

নয়া দিল্লীঃ চা বিক্রি করে বস্তির গরিব বাচ্চাদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপলব্ধ করানো সমাজসেবী পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত প্রকাশ রাও বুধবার প্রয়াত হন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওনার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। প্রকাশ রাও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কটকের শ্রীরামচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে ওনার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসা চলাকালীন ২০ দিন পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রয়াত হন।

বুধবার বিকেল ৪ঃ১৫ নাগাদ উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওনার মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নামে। সমাজসেবার জন্য গোটা জীবন সমর্পিত করা প্রকাশ রাও চায়ের দোকান চালিয়ে জীবনযাপন করতেন। আর চায়ের দোকান চালিয়ে তিনি যেই টাকা উপার্জন করতেন, সেই টাকা দিয়েই তিনি গরিব বাচ্চাদের শিক্ষার বন্দোবস্ত করতেন। জীবনে তিনি ২১৮ বার রক্তদান করেছেন, এটাও একটি রেকর্ড। ২০১৯ সালে সমাজসেবার জন্য ওনাকে রাষ্ট্রপতি পদ্মশ্রী সন্মানে ভূষিত করেন।

২০১৮ এর ২৬ মে কটক সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওনার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সমাজসেবার জন্য ওনার প্রশংসাও করেন তিনি। উল্লেখ্য, ডি প্রকাশ রাও কটকের বকসি বাজারে চায়ের দোকান চালান। ওনার চায়ের দোকান ওই এলাকায় প্রসিদ্ধ। চা বিক্রি করে উনি ১৯ বছর একটি স্কুলও খোলেন। সেই স্কুলে বস্তির বাচ্চাদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করতেন তিনি।

ওই বাচ্চাদের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন তিনি নিজেই করতেন। এরকম সমাজসেবা মূলক কাজের জন্যই তিনি পদ্মশ্রী সন্মানে সন্মানিত হন। পদ্মশ্রী সন্মান পাওয়ার আগে উনি হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ভারত বিকাশ সন্মান ছাড়াও আরও কয়েকটি সন্মানে সন্মানিত হয়েছিলেন।

ডি প্রকাশ রাওয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওনার সাথে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন ট্যুইটারে। তিনি ট্যুইট করে লেখেন, ‘শ্রী ডি প্রকাশ রাও এর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ। উনি যা অসামান্য কাজ করেছে তা মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি যথাযথভাবে শিক্ষাকে ক্ষমতায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে দেখেছিলেন। আমি কয়েক বছর আগে কটকে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাতটি স্মরণ করি। তাঁর পরিবার এবং প্রশংসকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওম শান্তি।”