Press "Enter" to skip to content

বাবরি ধ্বংসের বিরোধিতায় পাকিস্তানে ৩০ টি মন্দির ধ্বংস করেছিল কট্টরপন্থীরা! প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশেও

শেয়ার করুন -

আজ থেকে ঠিক ২৭ বছর আগে উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) অযোধ্যায় (Ayodhya) বাবরি মসজিদকে (Babri Masjid) ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে বাবরি বিধ্বস্তের প্রভাব ভারত সমেত আশেপাশের দেশেও পড়েছিল। পাকিস্তানে (Pakistan) থাকা হিন্দু (Hindu) সম্প্রদায়ের মানুষেরা আগে থেকেই চরম সমস্যার সন্মুখিন ছিল, আর বাবরি ধ্বংসের পর তাঁদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ এ বাবরি মসজিদ ভাঙার খবর প্রতিবেশী দেশে পৌঁছানর পরেই, সেখানে হিন্দু মন্দির গুলোয় হামলা শুরু হয়ে যায়। তখন সেই খবরকে আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম নিউইউর্ক টাইমসে ছাপা হয়েছিল। PAKISTANIS ATTACK 30 HINDU TEMPLES এর হেডিং দিয়ে ছাপা এই সংবাদে বলা হয়েছিল যে, পাকিস্তানে কেমন প্রভাব পড়েছিল বাবরি ধ্বংসের।

সংবাদ পত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানে ৩০ টি হিন্দু মন্দিরে হামলা হয়েছিল। পাকিস্তানি সরকার বাবরি বিধ্বংসের বিরধিতায় একদিনের জন্য স্কুল আর সরকারি অফিস বন্ধ করে রেখেছিল। পাকিস্তানের কট্টরপন্থীরা ছয়টি মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল আর এয়ার ইন্ডিয়ার দফতরে হামলা চালিয়েছিল। উন্মাদী জনতা ;Crush India!” আর ‘Death to Hinduism!” এর স্লোগানে মুখর হয়েছিল।

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রালয় ভারতীয় রাজদূতকে ডেকে চিন্তা জাহির করেছিল, আর শ্রীঘ্রই মসজিদ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছিল। সরকার এও জানিয়েছিল যে, তাঁরা এই ইস্যু রাষ্ট্র সঙ্ঘে নিয়ে গিয়ে মুসলিম দেশের কাছে আবেদন করে ভারতে থাকা মুসলিমদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করার কথা বলবে।

আরেকদিকে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাও এর কুশপুতুল দাহ করে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে। ক্ষুব্ধ ছাত্ররা মুখে একটাই কথা ছিল, তাঁরা বলছিল এবার হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধই একমাত্র রাস্তা। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে তখন দুই শতাংশেরও কম হিন্দু জনসংখ্যা ছিল। গোটা হিন্দু সমাজের মধ্যে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছিল।

লাহোরে কট্টরপন্থীরা বুলডোজার চালিয়ে পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির পাশে থাকা একটি প্রাচিন জৈন মন্দিরকে ধ্বংস করে দেয়। পুলিশ গোটা মামলা দেখেও নীরব দর্শক হয়েছিল। যখন এয়ার ইন্ডিয়ার দফতরে হামলা করা হয়েছিল, তখনও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নিয়েছিল না। এয়ার ইন্ডিয়ার দফতরের আসবাবপত্র টেনে টেনে রাস্তায় বের করে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

করাচিতে পাঁচটি মন্দিরে হামলা হয়েছিল আর সিন্ধের দক্ষিণ এলাকায় ২৫ টি মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের ওই এলাকায় ৯৫ শতাংশ হিন্দু বসবাস করত।

বাবরি ধ্বংস নিয়ে শুধু পাকিস্তানেই না, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও প্রভাব পড়েছিল। যদিও পাকিস্তানের মতো এতটাও উগ্র প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছিল না। দেশের রাজধানী ঢাকায় এয়ার ইন্ডিয়া দফতরে হামলা চালিয়েছিল কট্টরপন্থীরা। এমনকি এয়ারলাইন্স দফতরে আগুনও লাগিয়ে দিয়েছিল তাঁরা।