নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল প্রভাবশালী নেতা, বিস্ফোরক চিঠিতে উল্লেখ করলেন সুদীপ্ত সেন

কলকাতাঃ জেলে বসে একটি বিস্ফোরক চিঠি লিখেছিলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। সেখানে তিনি রাজ্যের নেতাদের নাম উল্লেখ করে কে কত টাকা নিয়েছিলেন সেটা বলেছিলেন। সুদীপ্ত সেনের ওই চিঠিতে বলেছিলেন যে, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু ওনার থেকে ২ কোটি টাকা নিয়েছেন। এছাড়া বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী ওনার থেকে ৯ কোটি টাকা নিয়েছেন। মুকুল রায় কত নিয়েছেন উনি ঠিক বলতে না পারলেও, শুভেন্দু অধিকারী ওনার থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন সেটা সেই বিস্ফোরক চিঠিতে জানান তিনি। এছাড়াও নাম উঠেছিল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীরও।

জেলে বসে লেখা ২১ পাতার চিঠিতে সারদা কাণ্ডের প্রধান ষড়যন্ত্রকারীদের কথা উল্লেখ করলেন সুদীপ্ত সেন। । গত ১৯ ডিসেম্বর সেই চিঠি জেল থেকে কলকাতা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন যে, কখনো তিনি কলকাতা ছেড়ে পালাতে চাননি। কিন্তু প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার চাপে সারদা কোম্পানি বন্ধ করে কলকাতা থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ওনার সাথে সারদা গোষ্ঠীর অন্যতম পরিচালক দেবযানী মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।

সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন দ্বারা লেখা এই চিঠির কপি কলকাতা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিবিআই-এর ডিরেক্টর ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ওই ২১ পাতার চিঠিটির তিনটিভাগে একাধিক বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন সুদীপ্ত সেন। প্রথম অধ্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা ওনাকে কীভাবে প্রতারিত করেছেন সেটা জানিয়েছেন। পরের দুটি অধ্যায়ে সারদা তৈরির কাহিনী জানিয়েছেন।

ওই চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন যে, কীভাবে প্রভাবশালী নেতা আর এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর হাতে আমানতকারীদের টাকা তুলে দেওয়া হত। কোন নেতাকে কবে কীভাবে ড্রাফট আর চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছিল সেটাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সুদীপ্ত সেন জানিয়েছেন যে, ২০১৩ এর এপ্রিল মাসে এক প্রভাবশালী নেতা ওনাকে দিয়ে জোর করে সিবিআই-এর কাছে চিঠি লিখিয়েছিলেন। আর এরপরই তিনি কলকাতা ছেড়ে পালান। এবং কাশ্মীরে উনি গ্রেফতার হন।

Related Articles

Back to top button