Press "Enter" to skip to content

বেদে উল্লেখিত পবিত্র সরস্বতী নদী এক সময় বইতো ভারতের বুকে! বিজ্ঞানীরা তথ্যের সাথে প্রমাণ করলো নদীর অস্থিত।

শেয়ার করুন -

গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী।
নর্মদে সিন্ধুকাবেরী জলেহস্মিন সন্ধিনং কুরু।।, এই শ্লোক সকল ভারতীয় কখনো না কখনো শুনে থাকবেই। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলিতে সরস্বতী নদীর (Saraswati river) বহুবার উল্লেখ রয়েছে। বেদ এবং পুরান অবিশ্বাসী লোকেরা প্রায়শই সরস্বতী নদীর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এখন বিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকদের প্রস্তুত করা নতুন গবেষণামূলক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে যে সরস্বতী নদী কেবল শুধু অস্তিত্ব ছিল তাই নয়, প্রাচীনকালে এটি ছিল মানুষের জীবন নদীর মতো। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকৃতি বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে সরস্বতী আগে ঘাগড় নদী নামে পরিচিত ছিল। হরপ্পান সভ্যতার যুগে এটি আবাসের মাঝখানে প্রবাহিত হত।

Saraswati river

এই নদী হিমবাহ থেকে হিমালয়ের উঁচু চূড়ায় নেমে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছিল। হরপ্পান সভ্যতার সেরা দিনগুলিতে সরস্বতী নদীতে ভারত ও পাকিস্তানের একটি বিশাল অঞ্চল সেচ করত। আগে বলা হয়েছিল যে ঘাগড় একটি বর্ষার নদী এবং হরপ্পার লোকেরা বাকী দিন গুলি বৃষ্টির উপর নির্ভর করত। নদীর তলদেশের প্রায় 300 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি পরিবর্তন অধ্যয়ন করার পরে দেখা গেছে যে সারা বছর ধরে সরস্বতী নদীর প্রবাহিত হওয়ার ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে।

সরস্বতী নদী

জানিয়ে দি, সরকার সরস্বতী নদীর পুনরুদ্ধারের কাজ ২০১৬ সালের আগে থেকেই করে দিয়েছে। এর জন্য জোর কদমে খনন কার্য চলছে। বলা হয়, ঋক বেদ এই নদীর তীরে বসে লেখা হয়েছিল। স্বরস্বতী নদী ভারতের জন্য একটা গৌরবের বিষয় তাই নদীকে আবার জীবন দান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার উপর ভরপুর প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। নদীকে পুনরুদ্ধার করার জন্য হরিয়ানার সরকার আগেই ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে।

বিজ্ঞানীরা পুরো সময়কালকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। এক খ্রিস্টপূর্ব ৭৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৮,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ এবং একটি ৭০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত। এই উভয় সময়েই সরস্বতী নদী কোনও বাধা ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে প্রবাহিত হত। এর সাথে সরস্বতী নদী সহ শ্রেগ্বেদের অনেক শ্লোকও মুদ্রাঙ্কিত হয়েছিল। দ্বিতীয় সময়কালের শেষে, হরপ্পান সংস্কৃতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং সরস্বতী নদীর শেষের সাথে লোকেরা উর্বর জমির সন্ধানে অন্যত্র চলে গিয়েছিল।

এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন অনির্বাণ চ্যাটার্জী, জ্যোতিরঞ্জন রায়, অনিল শুক্লা এবং কাঞ্চন পান্ডে। এর জন্য পূর্বের গবেষণার পাশাপাশি অনেক আধুনিক কৌশলও ব্যবহৃত হয়েছিল। চ্যাটার্জী, রায় এবং শুক্ল – তিনজনই আহমেদাবাদের নবরঙ্গপুরার শারীরিক গবেষণা গবেষণাগারে কাজ করছেন। কাঞ্চন পণ্ডিত আইআইটি বোম্বাইয়ের আর্থ বিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত আছেন। অনির্বাণ কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজের ভূতত্ত্ব বিভাগেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই চারটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রমাণ করেছেন যে সরস্বতী নদী কোনও মিথ নয়।