অপরাধনতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

মালদায় ধর্ষিতা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, ধর্ষক TMC ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে নির্যাতিতার পরিবারকেই উল্টে শাস্তি

মালদাঃ অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পলাতক যুবক। মালদার হরিশচন্দ্রপুরের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠছে শাসক  দলের দিকে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে যে, এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযুক্ত যুবক তাঁর দিদিকে দিয়ে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ডেকে পাঠায়। এরপরই অভিযুক্তের দিদি তাঁর দিদার বাড়ি যাবে বলে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। আর সেই সময় অভিযুক্ত যুবক নাবালিকাকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

ধর্ষিতা নাবালিকা বাড়ি ফিরে এলেও প্রাণ ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। আর এরই মধ্যে অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে সে। নির্যাতিতার পরিবার ঘটনাটি জানতে পেরে অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টে তাঁদেরই হুমকি দেওয়া হয়। এরপর গ্রামের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতারা সালিশি সভার মাধ্যমে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ করে বলে, তাঁদের হুমকির সুরেই বলা হয়েছে যে অভিযুক্তের সঙ্গে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এই কারণে চুপচাপ চেপে যাওয়াই ভালো।

যদিও, নির্যাতিতার পরিবার হুমকির উপেক্ষা না করে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এরপরই নির্যাতিতার গোটা পরিবারকে একঘরে করে দেয় এলাকাবাসী। রবিবার নির্যাতিতার মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশ নড়েচড়ে বসলেও, ততক্ষণে অভিযুক্ত এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছে। এরপরই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলও। যদিও, তৃণমূল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মালদা জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জম্বু রহমান গোটা ঘটনায় তৃণমূলের যুক্ত থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে পাল্টা বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই এলাকায় সবাই বিজেপি। ওঁরা তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ দিয়ে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে। তৃণমূল এরকম ঘৃণ্য অপরাধ করে না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button