ইতিহাসবিশেষ

শায়েস্তা খাঁর উপর ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ভয়ানক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! পড়ানো হয় না ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে

ভারতের বীর যোদ্ধারা শত্রুদের উপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছে এমন ঘটনা বর্তমান সময়ে প্রথম মনে হলেও ভারতে এমন ইতিহাস অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। যদিও গভীর ষড়যন্ত্রের জন্য বেশিরভাগ ইতিহাস লুপ্ত হয়ে গেছে। আর বাকি যা কিছু রয়েছে তার স্থান পাঠ্যবইতে হয়নি। আজ India Rag এর পাঠকদের এমনই একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সম্পর্কে জানাবো যা যেকোনো ভারতীয়কে গর্ববোধ করতে বাধ্য করবে।

ঘটনা ১৬০০ শতাব্দীর, যখন ওরঙ্গজেব তার মামা শায়েস্তা খানকে দক্ষিনের সেনাপতি নিযুক্ত করে। যার মূল কাজ ছিল দক্ষিণে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে কাবু করা। দক্ষিণে দায়িত্ব নিতেই শায়েস্তা খান নিজের অভিযানে নেমে পড়ে। পুনে,কল্যাণ ও চাকানের মারাঠা কেল্লাগুলির উপর আক্রমন হানে। শায়েস্তা খাঁ পুনতে নিজের আধিপত্য স্থাপন করে এবং মারাঠা হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। ওই সময় শিবাজি সিংহগড় কেল্লায় ছিলেন। যেটা পুনে থেকে ১৬ কিমি দুরে অবস্থিত ছিল। ১৬৬১ থেকে ১৬৬৩ অবধি শায়েস্তা খাঁ শিবাজি মহারাজের বিরুদ্ধে লাগাতার সৈন্য অভিযানে চালাতে থাকে।

যার মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিবাজি মহারাজের সেনা জয়ী হতো, আর কিছু ক্ষেত্রে সেনা শায়েস্তা খানের নগরে নগরে ঢুকে উপদ্রব করার সুযোগ পেয়ে যেত। লাগাতার সৈন্য অভিযানের কারণে শিবাজি মহারাজের রাজ্যের অর্ধেক অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর শিবাজি মহারাজ শায়েস্তা খাঁকে শিক্ষা দিতে এমন পরিকল্পনা করেন যার দরুন শিবাজি মহারাজের জয় জয়কার পশ্চিম থেকে পূর্বে উত্তর থেকে দক্ষিণে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬৬৩ সালের ৫ এপ্রিল মধ্যে রাতে শিবাজি মহারাজ শায়েস্তা খাঁ এর সৈনিকদের উপর ভয়ানক আক্রমন করেন। যেটাকে আজকের দিনে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বললে কোনো ভুল হবে না। ৫ এপ্রিল শিবাজি মহারাজ ৪০০ বাহাদুর সৈনিকদের নিয়ে পুনের অভিমুখে রওনা দেন।

মধ্যেরাতে শিবাজি মহারাজ ও উনার বীর সৈনিকরা পুনে পৌঁছে যায়। এরপর পালা ছিল মুঘলদের কবজা করে নেওয়া এলাকায় প্রবেশ করার। শিবাজি মহারাজের দুদিকে ছিলেন উনার দুই বীর যোদ্ধা বাবাজি বাপু ও চিমনাজি বাপু। মুঘলসেনাকে বলা হয় যে তারা দক্ষিনের জন্য সৈনিক হিসেবে নিযুক্ত হতে এসেছেন। মুঘল ডেরায় ঢুকে পড়তেই শুরু হয় মিশন।

শিবাজি মহারাজ পুনের কেল্লার ছাদে অত্যন্ত তীব্রগতিতে চেপে পড়েন। শিবাজি মহারাজ এখানেই নিজের ছোটোবেলা কাটিয়েছেন। কেল্লার প্রত্যেক কোনা মহারাজের জানা ছিল। ছাদে দেখেন মুঘলদের কিছু সেনা খাওয়া দাওয়া করে নিদ্রায় আচ্ছন্ন। বেশকিছু মুঘল সেনা জেগে ছিল তাদের নিঃশব্দে পরলোকে পাঠিয়ে দেয় শিবাজি মহারাজের সেনা। এরপর ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ সেই জায়গায় পৌঁছে যান যেখানে শায়েস্তা খাঁ এর হারাম ছিল। হারামের পরেই ছিল শায়েস্তা খাঁ এর শোবার ঘর। হারামের দেওয়াল থেকে শিবাজি মহারাজের সৈনিকরা ইট খুলে খুলে একটা সুড়ঙ্গ তৈরি করে। যার মধ্যে দিয়ে একজন করে ব্যাক্তি প্রবেশ করতে পারবে।

প্রথমে শিবাজি মহারাজ ও চিমনাজি বাপু প্রবেশ করেন। এদিকে হারামের মহিলারা চিৎকার শুরু করে। ভয়ে শায়েস্তা খাঁ এর ঘুম ভেঙে যায়। শায়েস্তা খাঁ পলায়ন করার চেষ্টা করে। তবে ততক্ষনে শিবাজি মহারাজ হর হর মহাদেব বলে নিজের তলোয়ার বের করে নিয়েছেন। শায়েস্তা খাঁ এর মাথাকে দেহ থেকে আলাদা করার জন্য ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ অস্ত্র চালান। কিন্তু শায়েস্তা খাঁ এর হাত সামনে এসে যায়। হারামের মহিলারা তাড়াহুড়ো করে আলো নিভিয়ে দেয়। অন্যদিকে মহারাজের সেনা সৈনিক ডেরায় জয় ভবানী শ্লোগান দিয়ে গাজর মুলোর মতো শত্রুদের কাটতে শুরু করে। বাবাজি বপুর নেতৃত্বে কিছু সৈনিক ডাক ঢোল বাজাতে থাকে।

যাতে হারামের আওয়াজ বাইরে থাকা মুঘল সৈনিকদের অবধি না পৌঁছায়। কিন্তু হাঙ্গামা এতটাই বেশি ছিল যে আওয়াজ বাইরে চলে যায়। শায়েস্তা খাঁ এর ছেলে আবুল ফতে নিজের আব্বুকে বাঁচাতে দৌড়ে আসে। কিন্তু শিবাজি মহারাজের সৈনিকরা তাকে মেরে ফেলে। শায়েস্তা খাঁ ভয়ে কোথায় লুকিয়ে পড়ে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয় যায়। মুঘল ডেরায় হাহাকার ছড়িয়ে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ সেখানে থেকে বেরিয়ে আসেন। পরদিনই খবর আসে যে শায়েস্তা খান ভয়ে দিল্লী পলায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুঘলরা দিল্লী দরবারে শিবাজিকে শয়তানের অবতার বলে যে কিনা সব জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। আসলে মহারাজের এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক মুঘলদের কাঁপিয়ে দেয়।

Back to top button
Close