Press "Enter" to skip to content

যারা নিজের ধৰ্ম মানে না আবার বড়দিন পালন করে, বাঙালি হিন্দুদের একহাত নিলেন তসলিমা নাসরিন

শেয়ার করুন -

নিজের মুখর মন্তব্যের জন্য প্রায় চর্চায় থাকেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন হোক বা বাংলাদেশ, পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর অত্যাচার- প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাষায় নিজের বক্তব্য রাখেন তসলিমা নাসরিন। বেসিরভাগ ক্ষেত্রে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের কট্টরপন্থীদের উপর প্রশ্ন তোলেন।

এখন আরো একবার নিজের মতের জেরে চর্চায় রয়েছে বাংলাদেশি লেখিকা। তবে এবার তসলিমা নাসরিন কট্টরপন্থীদের নয় বরং এক হাতে নিয়েছেন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত বাঙালি হিন্দুদের। নিজের ধর্মের উৎসবের বেলা যে সমস্ত হিন্দুরা পরিবেশরক্ষক সেজে বসেন আবার অন্য ধর্মের উৎসবে যারা আনন্দে মেতে ওঠেন তাদেরকেই আক্রমন করেছেন লেখিকা।

তসলিমা নাসরিন বলেছেন, লক্ষ করেছি বাঙালি হিন্দুরা বড়ো দিন, ক্রিস্টমাস পালন করতে খুবই উৎসাহী। লেখিকা বলেছেন, যেসব হিন্দুরা নিজের ধর্মই মানে না তারাও বড়ো দিন ক্রিস্টমাস এলে গির্জায় যেতে শুরু করে তথা কেক কেটে আনন্দ উৎসব পালন করে। অবশ্যই এদেরকে আবার ঈদ, বুদ্ধ পূর্ণিমা, গুরু নানক জয়ন্তী, হানুকা পালন করতে দেখা যায় না বলে কটাক্ষ করেছেন লেখিকা।

তসলিমা নাসরিন আরো বলেছেন- কলকাতা এক সময় ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। তার প্রভাবের কারণেই কি এমনটা হয়? খ্রিস্টান সাহেবদের ক্রিস্টমাস পালন করতে দেখে দেখে কি সেটা বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের সংস্কৃতি মনে করতে শুরু করেছে বা ঐতিহ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। নাকি কোনো এক সময় প্রভুদের গায়ের রং, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি সবকিছুকে নিজেদের থেকে বেটার(ভালো) মনে করতো সেটাই মাথায় রয়ে গেছে?

প্রসঙ্গত তসলিমা নাসরিন যে কড়া ভাষায় বাঙালি হিন্দুদের আক্রমন করেছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এক সময় বাঙালি হিন্দুরা দেশ, ধৰ্ম, সংস্কৃতি রক্ষার জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। তবে ব্রিটিশদের থেকে বাঙালি হিন্দুদের মৌখিক স্বাধীনতা পেলেও মানসিক স্বাধীনতা পেয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নঃ উঠছে। ভাষা হোক, পোশাক হোক বা উৎসব পালন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বাঙালি হিন্দুদের উপর ইংরেজ খ্রিস্টানদের প্রভাব এখনও রয়েছে। এমনকি ইংরেজরা ভারতীয়দের গোলাম বানিয়ে রাখার জন্য যে পাঠ্যক্রম বানিয়েছিল তারও কোনো পরিবর্তন বর্তমান ভারতে দেখতে পাওয়া যায়নি। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।