নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

আচমকাই নয়, পরিকল্পনা মাফিকই সরানো হয়েছে দিলীপ ঘোষকে, রয়েছে মাস্টার প্ল্যান

কলকাতাঃ বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষের মেয়াদ এখনও এক বছরের উপরে বাকি ছিল। তবে সেই মেয়াদ ফুরনোর আগেই দিলীপ ঘোষকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একবছর পর বিজেপির সংবিধান হিসেবে দিলীপ ঘোষ আর ওই পদে থাকতে পারতেন না, কিন্তু মেয়াদ ফুরনোর আগেই আচমকাই কেন পরিবর্তন, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা।

চারিদিকে এখন এটাই প্রশ্ন উঠছে যে, ২০০ আসন নিয়ে বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখা বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ই কী দিলীপ ঘোষকে হটানোর মুল কারণ? এই গুঞ্জনও উঠছে যে, ৭৭ আসন নিয়ে বিরোধী থাকা বিজেপির আসন সংখ্যা কমে ৭১ হয়ে যাওয়াতেই হয়ত দিলীপ ঘোষকে সরানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের হারের পর বঙ্গ বিজেপি তে তুমুল ভাঙন দেখা দিয়েছে। তৃণমূল থেকে আসা নেতারা তো দূরের কথা, এখন জন্মলগ্ন থেকে বিজেপি করা নেতারাও গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূলের দিকে পা বাড়াচ্ছে। আর এই জন্য দলেরই অন্দরে অনেকেই দিলীপ ঘোষকে দুষছেন। স্বাভাবিক ভাবেই দল যখন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায় তখন তাঁর কৃতিত্ব দলের প্রধানের উপরেই যায়। আর দল ডুবলে তাঁর দায়ও দলের প্রধানকেই নিতে হয়।

তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপিকে স্বর্ণযুগ দেখিয়েছেন দিলীপ ঘোষই। কারণ দিলীপ ঘোষের আমলেই দল এত শক্তিশালী হয়েছে যে লোকসভায় ১৮টি আসন আর বিধানসভায় ৭৭টি আসন পেয়েছে বিজেপি। প্রাক্তন কোনও বঙ্গ বিজেপির অধিনায়ক এমন সাফল্য পাননি।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হার এবং দলে ভাঙন রুখতে না পাড়াতেই দিলীপ ঘোষকে আগেভাগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। আর সেই কারণেই নতুন মুখ এনে বড়সড় চমক দিতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

দিলীপ ঘোষকে সরানোর পিছনে আরও একটি কারণও উঠে এসেছে। সেটি হল উত্তরবঙ্গ তত্ত্ব। আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় যে বিজেপি আর আগের মতো ফল করতে পারবে নে, সেটা প্রায় ধরেই নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু উত্তরবঙ্গে বিজেপি যেই ঘাঁটি গাড়তে সক্ষম হয়েছে, সেটি কোনওমতেই হাতছাড়া করতে চান না তাঁরা। আর এই কারণেই উত্তরবঙ্গকে আগলে রেখে এগিয়ে যেতেই নতুন সভাপতি নিযুক্ত হয়েছে।

Related Articles

Back to top button