Press "Enter" to skip to content

ভারতের সুরক্ষার জন্য চীন সীমার কাছে তিনটি বিমানবাহক পরমাণু রণতরী মোতায়েন করেছিল আমেরিকা, এরজন্যই বদলাল চীনের সুর

শেয়ার করুন -

নয়া দিল্লীঃ ভারত-চীন (India-China) সীমান্তে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley) হওয়া হিংসাত্মক ঘটনায় ভারতের ( India) ২০ জন জওয়ান শহীদ হয়েছেন আর চীনের (China) ৪৩ জন জওয়ানকে নিকেশ করেছে ভারতীয় সেনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) কড়া বার্তার পরেও চীন লাগাতার শান্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার বিকেলে চীনের বিদেশ মন্ত্রালয় জানিয়েছে যে, চীন সীমান্তে অশান্তি চায়না। আরেকদিকে আমেরিকা (America) নিজেদের তিনটি পরমাণু রণতরী প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সীমান্তের একেবারে কাছেই মোতায়েন করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে চীনের বর্তমান সুর নরম করার প্রধান কারণ হল বর্তমানে চারিদিক থেকে আসা আন্তর্জাতিক চাপ।

করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ি করা আমেরিকা খোলাখুলি ভারতকে সমর্থন করছে এই বিষয়ে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর পর আমেরিকা নিজেদের বিমানবাহক এবং পরমাণু রণতরী প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষিয়ে মোতায়েন করেছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে চীনের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আমেরিকা ভারতের সুরক্ষার জন্য এই রণতরী গুলোকে চীন সীমান্তের পাশে মোতায়েন করেছে। আপনাদের জানিয়ে দিই, দক্ষিণ চীন সমুদ্রে চীনের বাড়াবাড়ির কারণেই আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

জানিয়ে দিই, ওই তিনটি রণতরী আমেরিকার বিখ্যাত পরমাণু ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ। ওই রণতরী গুলো হল ইউএসএস থিয়োডর রুজবেল্ট, ইউএসএস নিমিতজ আর ইউএসএস রোনাল্ড রিগন। এগুলোর মধ্যে ইউএসএস ফিলিপিন সমুদ্রের গুয়াম এলাকায় মোতায়েন থাকে। আর ইউএসএস নিমিতজ ওয়েস্ট কোস্ট এলাকা আর রোনাল্ড রিগন জাপানের দক্ষিণ ফিলিপিন সাগরে মোতায়েন থাকে। আপনাদের জানিয়ে দিই, এই তিনটি রণতরী নিউক্লিয়ার মিসাইলের সাথে যুক্ত। আর চীন সীমান্তের আশেপাশে এগুলো মোতায়েন করায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে ড্রাগনের। যদিও আমেরিকা আপাতর ভারত-চীন সীমান্ত বিবাদ নিয়ে সোজাসুজি নাক গলাচ্ছে না, কিন্তু চীন বারবার আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই যাচ্ছে। চীন জানাচ্ছে যে, ভারত আমেরিকার উস্কানিতেই চীনের উপর হামলা করছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ওই অংশ নিয়ে চীন, ভিয়েতনাম, হংকং, জাপান আর আমেরিকা অনেক বছর ধরেই মুখোমুখি হচ্ছে। আমেরিকা এর আগেই চীনকে সাউথ চাইনা সমুদ্রে আক্রমণাত্বক ব্যবহার করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে। গত রবিবার চীন সাউথ চাইনা সমুদ্রের ৮০ টি জায়গার নাম বদলে দেয়। অগুলর মধ্যে ২৫ টি আইল্যান্ড আর প্রবালপ্রাচীর আছে আর বাকি ৫৫ টি সমুদ্রের নীচে থাকা ভৌগলিক স্ট্রাকচার।

এপ্রিল মাসে চীনের রণতরী ভিয়েতনামের একটি মাছ ধরার নৌকাকে সাউথ চাইনা সমুদ্রে ধ্বংস করে দেয়। ওই এলাকায় চীন অনেককয়েকটি আর্টিফিসিয়াল আইল্যান্ডের নির্মাণ করছে আর সেগুলোকে মিলিটারি স্টেশন রুপে বিকশিত করছে। ওই এলাকা সামরিক দিক থেকে ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মানা হয়।